ঘরোয়া উপায়ে দাঁতের আয়রনের কালো দাগ দূর করার উপায় জানুন

আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছে যাদের দাঁতে আয়রনের কালো দাগ পড়ে গেছে। কয়েকদিন হল দাঁতের হলুদ দাগ পড়ে গেছে এবং সেটি মেজে তোলা যায় না। এরকম সমস্যায় ভুগে আমাদের মধ্যে অনেকেই। দাঁতের এরকম কালো দাগের কারণে বাইরে বের হলে আমাদের বিভিন্ন ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
ঘরোয়া উপায়ে দাঁতের আয়রনের কালো দাগ দূর করার উপায় জানুন
সবাই আমাদের দাঁতের দিকে নজর দিতে থাকে। তখন আমরা বেশি লজ্জাকর বিষয়ের মধ্যে পড়ে যাই। প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমার আর্টিকেলের বিষয় ঘরোয়া উপায়ে দাঁতের আয়রনের কালো দাগ দূর করার উপায় সম্পর্কে।

ভূমিকা

আপনি কি ঘরোয়া উপায়ে আয়রনের কালো দাগ দূর করার উপায় সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। কেননা আজকের আর্টিকেলে আমরা আপনাদের জানাবো কি করে ঘরে বসেই ঘরোয়া উপায় আপনি আপনার দাঁতের আয়রনের কালো দাগ দূর করতে পারবেন। শুধু দাঁতের আয়রনের কালো দাগ নয় বরং অনেকের মুখে দুর্গন্ধ হয় তখন বাইরে বের হলে আমরা বিভিন্ন সমস্যাতে ভুগে থাকি।

ঘরোয়া উপায়ে দাঁতের আয়রনের কালো দাগ দূর করার উপায় জানুন

প্রত্যেক মানুষেরই দাঁত একটি সৌন্দর্যের প্রতি। সবাই চায় তার দাঁত যেন ঝকঝকে সাদা এবং সুন্দর হয়। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকের কিছু কিছু বদ অভ্যাসের জন্য আমাদের দাঁতের বিভিন্ন রকম কালো দাগ এবং আয়রন পড়ে যায়। কিন্তু কোন চিন্তা নেই। আপনি চাইলে ঘরে বসে কয়েকটি উপাদান দিয়ে আপনার দাঁতের আয়রনের কালো দাগ দূর করতে পারেন খুব সহজেই। প্রিয় বন্ধুরা চলুন তাহলে দেরি না করে জেনে নেই কিভাবে ঘরোয়া উপায়ে দাঁতের আয়রনের কালো দাগ দূর করা যায়ঃ

টুথপেস্ট এর সাথে ব্রেকিং সোডা ব্যবহার

আমরা প্রত্যেকেই প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করার সময় টুথপেস্ট ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এই টুথপেস্ট এর সাথে যদি আপনি সামান্য ব্রেকিং সোডা মিশিয়ে নিতে পারেন তাহলে খুব সহজেই আপনার দাঁতের কালো দাগ দূর হয়ে যাবে। ব্রেকিং সোডা শুরু খাবারের নয় বরং আপনার দাঁত পরিষ্কার করতো এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নিয়মিত এভাবে দাঁত মাজলে দাঁত চকচকে হতে খুব বেশিদিন সময় লাগবে না। সেই সঙ্গে আপনার দাঁতের দাগ ও দূর হয়ে যাবে। ব্রেকিং সোডা দিয়ে প্রতিদিন দুইবেলা ব্রাশ করতে পারলে আপনি আরো ভালো উপকার পাবেন।

লেবু আর ব্রেকিং সোডা

দাঁতের যত্নে দাঁতের কালো দাগ দূর করতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে লেবু এবং বেকিং সোডা। সেজন্য সমপরিমাণের লেবুর রস এবং ব্রেকিং সোডা একসাথে ভালো করে মিক্স করে নিতে হবে। এরপর সেই মিশ্রণ দিয়ে ভালোভাবে দাঁত পরিষ্কার করতে হবে। এতে করে দাঁতের দাগ দূর হবে এবং সেই সঙ্গে আরও ঝকঝকে হবে। পাশাপাশি আপনার দাঁতের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে। এজন্য দাঁত পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে লেবু এবং ব্রেকিং সোডা ব্যবহার করুন।

লবণ এবং তেল

লবণ শুধুমাত্র খাবারের স্বাদ ঠিক রাখে না বরং এটি আমাদের আরও বিভিন্ন কাজে লাগে। গলা ব্যথা হলে অবশ্যই আপনি লবন পানির করে গড়গড়া করেন! এমনকি লবণ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলেও দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং দাঁত পরিষ্কার হয়। লবণ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস অনেক পুরনো।
তবে লবণ দিয়ে তার সাথে সামান্য একটু সরিষার তেল মিশিয়ে নিলে আরো বেশি ভালো উপকার পাওয়া যায়। তাই লবণের পাশাপাশি সামান্য পরিমাণে সরিষার তেল নিয়ে কাজ পরিষ্কার করতে পারেন এতে করে দাঁতের দাগ একদম দূর হয়ে যায়।

আলু

আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতে এই সবজি থাকে। প্রতিদিনের রান্নাতে কোনো না কোনো সবজির সাথে আলু ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি যেমন পুষ্টিকর একটি সবজি ঠিক তেমনি এটি বেশ উপকারী আমাদের জন্য। কিন্তু এখানেই শেষ নয় আলু আরো বিভিন্ন কাজে লাগে।
বিশেষ করে রূপচর্চার কাজে এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আবার দাঁতের দাঁত দূর করে দাগ ঝকঝকে করতে এটি বেশ কার্যকর। আলুতে এক ধরনের প্রাকৃতিক বিচিং থাকে যা তাদের দাগ দূর করতে সাহায্য করে।

ব্রেকিং সোডা এবং হাইড্রোজেন পার অক্সাইড

হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড এবং ব্রেকিং সোডার মিশ্রণে দাঁতের দাগ দূর করা যায় খুব সহজেই। ব্রেকিং সোডা এবং হাইড্রোজেন পার অক্সাইড মিশিয়ে পেস্ট এর মত তৈরি করে সেটি দাঁতের উপর ১০ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখতে হবে। কোন সমস্যা না থাকলে ১০ মিনিটের জায়গায় 20 মিনিট পর্যন্ত লাগিয়ে রাখা যেতে পারে।
এরপর মিশ্রিত পেস্ট অপসারণ করে রেগুলার টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। এছাড়া হাইড্রোজেন পার অক্সাইড পানির সাথে মিশিয়ে আপনি ফুলকুচি করতে পারেন। প্রতিদিন অথবা ২-৩ দিন পরপর এক দিন। এভাবে কয়েকদিন দাঁত পরিষ্কার করলে দেখতে পাবেন আপনার দাঁতের জেদি কালো দাগ দূর হয়ে গেছে এবার দাঁত ঝকঝকে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

এলোভেরা এবং গ্লিসারিন

এই পেস্ট তৈরি করতে প্রথমে আধা কাপ ব্রেকিং সোডা, তারপর এক চামচ এলোভেরা জেল এবং চার টেবিল চামচ ভেজিটেবিল গ্লিসারিন এবং এক চামচ লেমন এসেন্সিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন। এরপর সেই মিশ্রণ দিয়ে ভালোভাবে দাঁত পরিষ্কার করুন। মুহূর্তের মধ্যে আপনার দাঁত সাদা এবং ঝকঝকে হয়ে যাবে।

কমলার খোসা

কমবেশি আমরা প্রত্যেকেই কমলা ফল পছন্দ করে থাকি। কমলার খোসার ভেতর দিয়ে দাঁত ঘষা হচ্ছে দাঁত সাদা করার একটি নিরাপদ প্রাকৃতিক উপাদান। কমলার খোসা সাদা অংশ বা অ্যালবোডোটে লিমনিন থাকে যা একটি ন্যাচারাল সলভেন্ট ক্লিনার এবং প্রকৃতপক্ষে তা অনেক বাণিজ্যিক দাঁত সাদা কারক প্রোডাক্টে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কমলার মাংসের অংশের মধ্যে এর খোঁচা এসিডিক নয় তাই তাদের এনামেল ড্যামেজ করার কোন ঝুঁকি নেই বলে এটি ব্যবহার করা নিরাপদ।

তিলের বীজ

এক মুঠ তিলের বীজ নিয়ে কয়েক মিনিট চিবিয়ে তারপর ফেলে দিন। এরপর দাঁতের ফাঁকের মধ্যে আটকে থাকা বীজ বের করতে পেস্ট ছাড়া খালি ব্রাশে ব্রাশ করুন। এটা হচ্ছে খুব সহজে দাঁতের দাগ দূর করার দীর্ঘ মেয়াদী একটি টিপস। তবে এটি আপনি নিয়মিত ব্যবহার করলে বা এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে খুব সহজেই আপনার দাঁতের দাগ ধীরে ধীরে দূর হয়ে যাবে।

ভিটামিন টুথ মাস্ক

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল এবং সবজি ভর্তার নাম হচ্ছে ভিটামিন টুথ মাস্ক। এটি তৈরি করে দাঁতে লাগালে দাগ ঝলমলে পরিষ্কার হয়ে যাবে। এই মাস্কটি তৈরি করতে টমেটো, স্ট্রবেরি এবং কমলা ভালোভাবে বেটে দাঁতের উপর পাঁচ থেকে ছয় মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে করে শুধু আপনার দাঁত পরিষ্কার নয় বরং মুখের ক্ষতিকর জীবাণুগুলো দূর হয়ে যাবে।

আপেল সিডার ভিনেগার

আপেল সিডার ভিনেগারের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য উপকারিতা। আপেল সিডার ভিনেগারের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুনাগুন যা দাঁতের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও আমাদের মাড়ির বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে আপেল সিডার ভিনেগার দিয়ে কুলি করতে পারেন।

কলার খোসা, তুলসী পাতা এবং পান পাতা

তুলসী পাতা দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী এটা আমরা সবাই জানি। বেশি করে তুলসী পাতা নিয়ে সেগুলো ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। সেগুলো পাতা শুকানোর পরে গুড়ো করে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করলে দাঁতের জেদি দাগ দূর হয়ে যায়।
এছাড়াও বলার খোসা সাদা দিক দিয়ে নিয়মিত দাঁত ঘষলে দাঁতের হলদে ভাব কেটে যায় খুব তাড়াতাড়ি। অন্যদিকে পান পাতা সরিষার তেলের ভিজিয়ে গরম করে দাঁতে ঘষলে দাঁত পরিষ্কার হয়ে যায়। অন্যদিকে তেজপাতার পাউডারের মধ্যে কয়েক ফোটা লেবুর রস মিশিয়ে দাঁত মাজলে দাঁতের কালো দাগ দূর হয়ে যায়।
প্রিয় বন্ধুরা এতক্ষণ ধরে আমরা জানলাম ঘরোয়া উপায় দাতের আয়রনের কালো দাগ দূর করার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে।

দাঁত ব্রাশ করার সঠিক নিয়ম

পছন্দের খাবারের কথা শুনলে কার মুখে না জল আসে বলেন। দাওয়াতে কিংবা বন্ধুদের সাথে রেস্টুরেন্টে মজার খাবার খেতে হলে তার তো কোনো কথাই নেই। কিন্তু বিভিন্ন রকম ফাস্টবুট খাবার গুলোর জন্য আপনার দাঁতের কথাটা ক্ষতি হচ্ছে সেটা কি আপনি জানেন? কিন্তু এই খাবারগুলো খাবার পরে দাঁতের অতিরিক্ত যত্ন কি আপনি নিচ্ছেন?
মুক্তার মত দেখতে দাত যেমন সুন্দর হাসির রহস্য ঠিক তেমনি সুন্দর দাঁতের জন্য চাই দাঁতের ভালো স্বাস্থ্য। আপনি আপনার সুন্দর দাঁতের যত্ন যদি ঠিকভাবে নিতে না পারেন তাহলে আপনাকে দেখতে ভালো লাগবে না। এজন্য আপনার সর্বপ্রথম দাঁত ব্রাশ করার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জেনে থাকা জরুরী। দাঁতের যত্নে টুথব্রাশ মাড়ি থেকে ৪৫ থেকে অ্যাঙ্গেলে রাখতে হবে।
এবার হালকাভাবে ওপর নিচে পরিষ্কার করতে থাকুন। কখনও খুব বেশি চাপ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করবেন না। খুব হালকাভাবে চাপ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করে নিন। এভাবে দাঁতের সব কয়টি অংশ ভালোভাবে ব্রাশ করে নেই এবং ভেতরের অংশ পরিষ্কারের জন্য একই পদ্ধতি ব্যবহার করুন। জিব্বা এবং মুখের তালুর পরিষ্কার করুন কারণ এখানে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে যা আমাদের দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। ঘুম থেকে উঠার পর এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্রাশ করে নিন।
এক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে অনেকেই আবার প্রত্যেক বেলা খাওয়ার পরে দাঁত ব্রাশ করেন। কিন্তু এটি উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। এজন্য সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই দুইবার ব্রাশ করাই উত্তম। প্রতি তিন মাস পর পর নতুন ব্রাশ ব্যবহার করা উচিত। পর্যাপ্ত সময় নিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন।
অনেকে বাথরুমে ব্রাশ রাখে যার কারণে এতে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার জমতে পারে যা আমাদের শরীরের জন্য এবং আমাদের দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য ব্রাশ করার পর ব্রাশ ভালোভাবে ধুয়ে শুকনো জায়গায় রাখতে হবে যাতে করে এতে কোন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার জমতে না পারে।

সুস্থ দাঁত পেতে চাইলে কি করবেন

দাঁতের মূল্য তারাই বোঝেন যারা দাঁতের বিভিন্ন ধরনের সমস্যাতে ভুগছেন। নিয়মিত যত নেওয়ার পাশাপাশি আমরা কি ধরনের খাবার খাচ্ছি সে দিকটা তো আমাদের নজর রাখা জরুরী বিষয়। দাঁত গঠনে পর্যাপ্ত আমিষ খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, সয়াবিন এবং গমের মধ্যে মিলবে বিভিন্ন ধরনের আমিষ।
এইসব খাবার শুধুমাত্র আমিষ নয় বরং আরো রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন। দাঁত গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন গুলোর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি এর অভাবে আমাদের দাঁতের মাড়ি দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং স্কার্ভি রোগ হতে পারে। এছাড়াও দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। এজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে আমাদের ভিটামিন সি খেতে হবে।
এছাড়াও ভিটামিন ডি আমাদের দাঁত এবং হাড় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে ডিমের কুসুম ইলিশ মাছ এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ থেকে শুরু করে মাখন এবং দুধ খেতে হবে। এছাড়াও ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার খেতে হবে। আমাদের দেহে যতগুলো ক্যালসিয়াম রয়েছে তার নিরানব্বই শতাংশ রয়েছে দাঁত এবং হাড়ে। এজন্য আমাদের পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে যাতে করে আমাদের দাঁত সুস্থ সবল থাকে।

দাঁতের মাড়ির কালো দাগ দূর করার উপায়

দাঁতের মাড়ির কালো দাগ দূর করার উপায় সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। প্রিয় পাঠক আজকে আমার আর্টিকেলে আপনারা জানতে পারবেন তাদের মাড়ির কালো দাগ দূর করার উপায় সম্পর্কে। অনেকের দেখা যায় মাড়ির রং কালো হওয়ার জন্য হাসলে কিংবা কথা বলতে লাগলে বিভিন্ন বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।
স্বাস্থ্যকর দাতের মাড়ির রং সাধারণত গোলাপী কিংবা লাল হয়। এছাড়াও অনেক সময় দাঁতের মাড়ির কালো দাগ বিভিন্ন সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে মেলানিনের উপস্থিতির কারণে কিছুটা গাঢ় হতে পারে দাঁতের মাড়ির রং।তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেই দাঁতের মাড়ির কালো দাগ দূর করার সহজ কিছু উপায় সম্পর্কে। দাঁতের মাড়ি কালো হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে।যেমনঃ

গ্রিন টি

গ্রিন টি বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকির চিকিৎসার জন্য পরিচিত এবং নারী স্বাস্থ্য উন্নতি বৈশিষ্ট্য গুলোর জন্য একদম পারফেক্ট। গ্রিন টির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এছাড়াও এর মধ্যে উপস্থিত প্রাকৃতিক কিছু রাসায়নিক উপাদান গুলো আমাদের দাঁতের কিংবা দাঁতের মাড়ির ব্যাকটেরিয়া গুলোকে দূর করতে সাহায্য করে ফলে আমাদের মাড়ির কালো দাগ দূর হয়।

ইউক্যালিপাস তেল

ইউক্যালিপটাস তেলের সহজাত অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং আন্টি ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য এটাকে ভিন্ন রোগের জন্য কার্যকর প্রতিকার হিসেবে গড়ে তুলেছে। এই তেলের একটি ছোট ফোঁটা আপনার দাঁতের যাবতীয় সমস্যা দূর করতে পারে। এটা আপনার মাড়ির লাইন বরাবর যে কোন প্রদাহ কিংবা কালো দাগ দূর করতে পারে খুব সহজে। এছাড়াও আমাদের মুখের মধ্যে থাকা উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া গুলোকে দূর করতে পারে।

লবঙ্গ

আমাদের দাঁত কিংবা দাঁতের মাড়ির যে কোন সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে দারুন ভূমিকা পালন করে থাকে লবঙ্গ। এরমধ্যে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, এন্টি ইনফ্লামেটরি এবং এন্টিসেপটিক উপাদান যা আমাদের অপুষ্টিকর মাড়ির টিস্যু তৈরি করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি আমাদের দাঁতের মাড়ির কালো দাগ দূর করতে পারে।

তিলের তেল

দাঁতের মাড়ি কালো দূর করার জন্য তিলের তেল ব্যবহার করা অন্যতম একটি পদ্ধতি। এর মধ্যে থাকা টক্সিন অপসারণ কারী বৈশিষ্ট্য গুলো মারি এবং দাঁতের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি আমাদের দাঁতকে মজবুত করতে সাহায্য করে।

দাঁতের পানের দাগ দূর করার উপায়

দাঁতের পানের দাগ দূর করার উপায় নিয়ে ভাবছেন! এই আর্টিকেলের মধ্যে পেয়ে যাবেন আপনার সমস্যার সমাধান।আমাদের মধ্যে অনেকে আছে বিশেষ করে যারা বয়স্ক তারা পান ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারে না।সকাল বিকাল এবং খাওয়ার পরে তাদের পান দরকার হয়।কিন্তু এই পান খাওয়ার চক্করে আমাদের দাঁতের বারোটা বেজে যায় এটা হয়তো অনেকেই জানে না।
যারা নিয়মিত পান খায় তাদের দাঁত কালচে হয়ে যায়। দাঁতের পানের কালো দাগ দূর করার কিছু উপায় রয়েছে। সেগুলো হলঃ
  • লবঙ্গের গুড়ার সাথে লবণ এবার টুথপেস্ট মিশিয়ে নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করতে হবে। দেখবেন খুব সহজেই তাদের কালো দাগ সহ অন্যান্য সকল দাগ দূর হয়ে গেছে। এছাড়াও পান খাওয়ার সাথে সাথে কুলি করে নিতে হবে এবং পারলে ব্রাশ করা শ্রেয়। এতে করে খুব সহজেই দাঁতের পানের দাগ দূর হয়ে যাবে।
  • দাঁতের দাগ ছোপ দূর করতে পাতিলেবুর রস দারুন উপকারে আসে। পাতিলেবুর রসের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সাইট্রিক অ্যাসিড। পাতি লেবুর রস এবং লবণ একসাথে মিশিয়ে দাঁত মাজলে খুব সহজেই দাঁত পরিষ্কার হয়ে যায়। দাঁত পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহার করতে পারেন পাতিলেবুর খোসাও।
  • পেয়ারা এবং নিম পাতার ব্যবহার শতকের পর শতক ধরে প্রচলন রয়েছে। সেটা অবশ্যই বিনা কারণে নয়। দাঁতের কালো দাগ দূর করতে দাতনের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে পেয়ারার পাতার রস এতে করে ম্যাজিকের মতো দূর হবে দাঁতের কালো দাগ।
  • অন্যদিকে দাঁতের কালো দাগ দূর করতে কিংবা পানের কালো দাগ দূর করতে কমলালেবুর কথা অনেকেই হয়তো জানেন না। কমলালেবুর রস আমাদের দাঁতের কালো দাগ দূর করতে এবং দাঁতের পানের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে।
  • সকালে এবং রাতে দাঁত পরিষ্কার করার সময় কিছুটা ব্রেকিং পাউডার যুক্ত করে নিতে পারেন। এতে করে আপনার দাঁত আরো ঝকঝকে হয়ে যাবে।
  • রোগা হওয়ার জন্য সকালে উষ্ণ জলে আপনি প্রতিদিন যে আপেল সিডার ভিনেগার খেয়ে থাকেন সেটা দিয়ে আপনার দাঁতের কালো দাগ দূর করতে পারবেন খুব সহজেই। খাওয়া-দাওয়ার পর মাও তো আসার পরিবর্তে আপনি আপেল সিডার ভিনেগার দিয়ে কুলি করার অভ্যাস করুন। এতে করে আপনার দাঁতের সব ধরনের কালো দাগ দূর হয়ে যাবে এবং মুখের ব্যাকটেরিয়া গুলো দূর হবে।
  • এক চামচ নারকেল তেল মুখে নিয়ে বারবার কুলি করার মতো করে দাঁতের ভেতর দিকে এবং বাইরের দিকে বের করুন বারবার। এ পদ্ধতি অনেক নিরাপদ যে কোন বয়সের যে কেউ এটি সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার করতে পারেন। এতে করে আপনার দাঁত পরিষ্কার হবে এবং দাঁতের কালো দাগ দূর হয়ে যাবে।
এছাড়াও অনেকের বিভিন্ন কারণে দাঁতের রং বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। কারো জন্ম থেকে দাঁতের রং ধবধবে সাদা হয় আবার কারোর হলদেটে কালার হয়ে থাকে। আবার অনেক সময় জীবন যাপন এবং খাদ্যের কারণে দাঁতে অনেক ধরনের দাগছোপ পড়ে যায়।এক্ষেত্রে দাঁতের কালো দাগ দূর করতে আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

দাঁতের কালো পাথর দূর করার উপায়

দাঁতের কালো পাথর দূর করবেন কিভাবে? সাধারণত দীর্ঘ দিনের অযত্ন এবং অবহেলার কারণে আমাদের দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা দেখা যেতে পারে। তেমনি একটি সমস্যা হচ্ছে দাঁতের প্লাগ জমা। অর্থাৎ দাঁতে কালো পাথর জমা। সাধারণত মুখের ভেতর ভালো হবে পরিষ্কার না করার কারণে দাঁতে পাথর জমে থাকে। 
মুখের ভেতরে থাকা জীবাণু, খাদ্য কণা এবং থুতুর মধ্যে থাকা প্রোটিন একসঙ্গে মিলে তৈরি হয় দাঁতে পাথর। এটা ঠিক মতো পরিষ্কার না করলে মিনারেলসের সঙ্গে নিচে স্তরের উপর স্তর তৈরি হতে থাকে।যারা বেশি মিষ্টি এবং আলু বেশি খায় তাদের ক্ষেত্রে দাঁতের পাথর হওয়ার সমস্যা দেখা যায় বেশি। ময়দার তৈরি খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে দাঁতে পাথর জমা সমস্যা দেখা যায়।
অন্যদিকে যারা অতিরিক্ত ধূমপান করেন কিংবা তামাক জাত দ্রব্য চিবিয়ে খান সব সময় তারা এই সমস্যা থেকে রেহাই পান না। দাঁতে পাথর জমলে অবশ্যই আপনার একজন ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে স্কেলিং করানো উচিত। এছাড়াও আপনি ঘরোয়া কিছু উপায়ে দাঁতের কালো পাথর দূর করতে পারেন। যেমনঃ

ব্রেকিং সোডার মিশ্রণ ব্যবহার

ব্রেকিং সোডা, লবণ, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড,পানি, টুথপেস্ট, ডেন্টাল পিক এবং অ্যান্টিসেপটিক মাউথ ওয়াশ নিন। এবার কাপে এক টেবিল চামচ বেকিং সোডা সঙ্গে হাফ চা চামচ লবণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। গরম পানির মধ্যে টুথব্রাষ্ট ভিজিয়ে নিয়ে ব্রেকিং সোডা এবং লবণের মিশ্রণ দিয়ে পাঁচ মিনিট ধরে ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করে নিন। তারপর ভালোভাবে কুলি করে নিবেন।
এরপর এক কাপ হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের সাথে হাফ কাপ হালকা গরম পানি ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এই পানির মুখে নিয়ে এক মিনিট রেখে দিন। এরপর আধা কাপ পানি দিয়ে কুলকুচি করে ফেলুন ভালোভাবে। এরপর ডেন্টাল পিক দিয়ে দাঁতের পাথরের উপর ধীরে ধীরে ঘষতে থাকুন। খেয়াল রাখবেন এতে করে যেন আপনার মাড়ির কোন ক্ষতি না হয়। এরপরে অ্যান্টিসেপটিক মাউথ ওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে কুলি করে নিন।

স্ট্রবেরি এবং টমেটোর ব্যবহার

স্ট্রবেরি এবং টমেটোর ব্যবহার আমাদের দাঁতের জন্য খুবই ভালো। আমাদের দাঁতের পাথর পরিষ্কার করার জন্য স্ট্রবেরি বা টমেটো দাঁতে ভালোভাবে ঘষে নিন। তারপর কমপক্ষে পাঁচ মিনিট রেখে দিন। তারপর দেখতে পাবেন দাঁতের পাথর কিছুটা নরম হয়ে এসেছে। এরপর ব্রেকিং সোডা মেশানো হালকা গরম পানি দিয়ে কুলি করে নিন। স্ট্রবেরি কিংবা টমেটো ছাড়াও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ক্যাপসিকাম, লেবু, কমলালেবু কিংবা পেঁপে দিয়েও করতে পারেন।

অ্যালোভেরা এবং গ্লিসারিন এর ব্যবহার

এলোভেরা এবং এই দুটোই আমরা আমাদের ত্বকের যত্নে ব্যবহার করে থাকি। তবে এটা আমাদের তাদের পাথর দূর করতেও ভীষণ উপকারী। এ দুটি উপাদান একসঙ্গে নিয়ে তার মধ্যে এক কাপ পানি এবং আধা কাপরে কিন্তু সাথে পাতি লেবুর রস মিশিয়ে একটি প্রাকৃতিক টুথপেস্ট বানিয়ে নিন। তারপর এটি নিয়মিত ব্যবহার করুন। দেখবেন আস্তে আস্তে আপনার দাঁত চকচকে এবং স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠবে।

দাঁতে পাইরিয়া হলে কি করবেন

দাঁতের পাইরিয়া হলে কি করবেন এবং এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় জানার আগে আপনার জানার প্রয়োজন দাঁতের পাইরিয়া আসলে কি? সাধারণত দাঁত এবং দাঁতের মাড়ির প্রদাহজনিত একটি রোগ পাইরিয়া। প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মধ্যে এই রোগ দেখা যায় বেশি।এটি একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সংক্রমণ যা আপনার দাঁতের মাড়ির কণা সমূহকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে।
এই রোগের চিকিৎসা যদি আপনি সঠিক সময় করতে না পারেন তাহলে এটি আপনার দাঁতের জন্য ভীষণ ক্ষতির কারণ হবে। সেক্ষেত্রে প্রায়ই আপনার দাঁতের ক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে এবং যার কারণে দাঁতের গোড়ায় পুঁজের মত সৃষ্টি হতে পারে। শুধু তাই নয় এই রোগ ভুলে দাঁতের মাড়ি আস্তে আস্তে সংকুচিত হতে থাকে এবং আপনার চোয়ালের অস্থিকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
এই রোগ হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে আমাদের দাঁতের যত্ন না নেওয়া। সাধারণত আমাদের দেশে কিছু লোকজন দাঁতের ব্রাশ এবং দাঁত মাজার পেস্ট নিয়ে খুবই বেশি অসচেতন। এছাড়াও অনেকে পেপসোডেন্ট ব্যবহার না করে ছাই দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করে থাকে।যার কারণে আমাদের দাঁতের এনামেল এবং মাড়ির অনেক বেশি ক্ষতি হয়।
দাঁতের পাইরিয়া থেকে রক্ষা পেতে অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং ঘরোয়া কিছু উপায়ে আপনি এটা ভালো করতে পারেন। সেগুলো হলঃ
  • হলুদের সাথে সামান্য পরিমাণ ফিটকিরি গোড়া মিক্স করে ভালোভাবে একটি পেজ তৈরি করুন এবং আপনার দাঁতে ভালোভাবে ব্যবহার করুন। এতে করে আপনার দাঁত পরিষ্কার থাকবে এবং তাদের মাড়ি ভালো থাকবে।
  • দারুচিনির তেল লাগানো দাঁতের বেশ উপকার হয়।
  • তুলসী পাতা শুকিয়ে সেটা ভালোভাবে ঘুরো করে তার সাথে সরষের তেল মিক্স করে পেস্ট তৈরি করে তাতে লাগিয়ে রাখুন। এটা আপনার দাঁতের জন্য ভীষণ উপকারি।
  • প্রতিদিন সকালবেলা আপনার দাঁত পরিষ্কার করার পরে আপনি তিলের বীজ চিবিয়ে খেতে পারেন। এছাড়াও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনি তিলের বীজ চিবিয়ে খেলে আপনার দাঁত পরিষ্কার থাকবে।
  • অল্প একটু তেলের মধ্যে লবঙ্গ দিয়ে সেটা ভালোভাবে ফুটিয়ে নেই। এবং তুলোর সাহায্যে সেই তেল নিয়ে আপনার আক্রান্ত জায়গায় সামান্য পরিমাণে লাগিয়ে রাখুন। এতে করে আপনার দাঁত পরিষ্কার থাকবে এবং দাঁতের পাইরিয়া রোগ দূর হবে।
  • টমেটো এবং গাজরের রস পান করলে দাঁত ভালো থাকে।
  • জি এর সাথে কর্পূর মেসে সকালবেলা এবং রাতের বেলা যদি দাঁতের মালিশ করে রাখতে পারেন তাহলে পাইরিয়ার রোগের যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পাবেন।
  • এছাড়া অনেক সময় কচি পেয়ারার পাতা চিবিয়ে খেলে মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়। 
  • এছাড়াও আপনি যদি পারেন ডালিমের শুকনো চামড়ার গুড়ার সাথে সামান্য গোলমরিচ নিয়ে তার সাথে একটু টুথপেস্ট নিয়ে ভালোভাবে প্রতিদিন দাঁত পরিষ্কার করুক। এতে করে আপনার পাইরিয়া রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

দাঁতের পাইরিয়া রোগের লক্ষন

দাঁতের পাইরিয়া রোগের বিভিন্ন লক্ষণ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ রোগের লক্ষণ বোঝার না খেলে পরবর্তীতে এবং আস্তে আস্তে এটা খুবই ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। সময় মতো চিকিৎসা না করলে তাতে ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে। এজন্য আপনার জানা উচিত দাঁতের পাইরিয়া রোগের লক্ষণ কি কি! সাধারণত মানব দেহে পাইরিয়া রোগের লক্ষণ তিনটি ধাপে পরিলক্ষিত হতে পারে।
প্রথম ধাপে মাড়ি তার প্রান্ত থেকে বের হয়ে আসতে শুরু করে। দ্বিতীয় পর্যায়ে দাঁতের শক্তি বিলীন হতে শুরু হয়ে যায় এবং মাড়ি থেকে রক্ত বের হতে থাকে। পরবর্তীতে এর রোগ আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করলে দাঁতের গোড়া থেকে বের হওয়া পানি বা পুঁজ আমাদের পেটের মধ্যে গিয়ে আরো বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়াও আপনি দাঁত ব্রাশ করার সময় অথবা শক্ত কোন খাবারে কামড় দেওয়ার সময় যদি বুঝতে পারেন আপনার দাঁতের মাড়ি ব্যথা হয়ে আছে এবং এটা যদি দীর্ঘদিন থাকে তাহলে বুঝবেন আপনি পাইরিয়া রোগে আক্রান্ত। এছাড়াও হঠাৎ করে আপনার অস্বাভাবিকভাবে মাড়ি ফুলে যেতে পারে। আপনার দাঁতে নিজের মাড়ি ঘা হয়ে সেটা ফেটে যেতে পারে।
দাঁত এবং মাড়ির মাঝে বিভিন্ন রকম পুঁজের সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও ব্রাশ করার সময় আপনার দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত বের হতে পারে। আপনার দাঁত এবং মাড়ির সংযোগস্থলে পকেট হয়ে সেখানে বিভিন্ন রকম ইনফেকশন হতে পারে। এছাড়াও মুখের হাড় ক্ষয় হতে পারে। এই সব লক্ষণ দেখলে আপনি বুঝে নিবেন যে আপনি দাঁতের পাইরিয়া রোগে আক্রান্ত।

পাঠকের শেষকথা

প্রিয় পাঠক এতক্ষণ ধরে আমরা জানলাম ঘরোয়া উপায়ে দাঁতের আয়রনের কালো দাগ দূর করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য। এছাড়াও আরো জানলাম দাঁত ব্রাশ করার নিয়ম এবং সুস্থ দাঁত পেতে চাইলে কি ধরনের খাবার খেতে হবে সে সম্পর্কে। আশা করছি আজকের এই পোস্টটি পড়ে আপনারা উপকৃত হয়েছেন।যদি আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন।
তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করবেন।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন।আজকে এই পর্যন্তই।দেখা হবে পরের কোন পোস্টে।আজকের এই পোস্টে যদি আপনার কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন।
এধরনের আরো আর্টিকেল পড়তে এবং বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে আমার ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।আর এতক্ষণ ধরে আমার আর্টিকেলের সাথে থাকার জন্য সকলকে ধন্যবাদ।আসসালামু আলাইকুম।

FAQ:ঘরোয়া উপায়ে দাঁতের আয়রনের কালো দাগ দূর করার উপায় সম্পর্কে পাঠকের কিছু প্রশ্ন।

১.দাঁতের কালো বন্ধ করার উপায় কি?

দাঁতের কালো বন্ধ করার উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চা, কফি এড়িয়ে চলা এবং ধূমপানের অভ্যাস এবং তামাক খাওয়ার অভ্যাস বাদ দেওয়া। এছাড়াও ভালো পেপসোডেন্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা এবং মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করা।

২.লবণ এবং তেল দিয়ে দাঁত মাজলে উপকার পাওয়া যায় কি?

অবশ্যই। আপনি যখন সামুদ্রিক লবণের মতো লবণ ব্যবহার করে দাঁত ব্রাশ করেন তখন এটি আপনার মুখের মধ্যে অম্লীয় উপাদান উপাদান কমিয়ে ফেলে এবং পিএইচ লেভেল এর ভারসাম্য বজায় রাখে। যার কারণে আপনার দাঁতের ক্ষয় রোধ হয়। যার কারণে আপনি লবণ এবং তেল দিয়ে তার ব্রাশ করলে আপনার দাঁতের মাড়ি শক্তিশালী হয়।

৩.লবণ পানি দিয়ে কি দাঁত সাদা করা যায়?

না লবণ পানিতে দাঁত সাদা করা যায় না। লবণ আমাদের মুখের স্বাস্থ্যের উন্নতির অবদান রাখতে পারে তবে টুথপেস্ট ক্লোরাইড এর বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

৪.তা কোন ফল খেলে দাঁত সাদা হয়?

হলদে দাঁত সাদা করতে আপনি নিয়মিত আপেল খেতে পারেন। ডাক্তাররা বলে থাকেন নিয়মিত আপেল খেলে আমাদের দাঁত পরিষ্কার হয় এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। এছাড়াও আপনি খেতে পারেন গাজর, স্ট্রবেরি, তরমুজ ইত্যাদি।

৫.কি খেলে দাঁতের মাড়ি শক্ত হয়?

ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেলে দাঁতের মাড়ি শক্ত হয়। অর্থাৎ গাজর, ব্রকলি, কাঁচামরিচ এবং কচ কচি সবজি আমাদের দাঁতের জন্য খুবই উপকারী। এছাড়াও দুধ, দই,পনির এবং দুধের তৈরি বিভিন্ন খাবার প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে এগুলো আমাদের দাঁত কে শক্তিশালী করে এবং ক্যাভিটির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম হয়।

৬.কোন ভিটামিনের অভাবে দাঁত ক্ষয় হতে পারে?

সাধারণত ভিটামিন ডি এর অভাবে শিশু এবং বৃদ্ধদের দাঁত ক্ষয় হতে পারে। পাশাপাশি আমাদের দাঁত ভেঙে যেতে পারে।

৭.বেশি লবণ খেলে কি দাঁতের ক্ষতি হতে পারে?

সোডিয়াম সরাসরি আমাদের দাঁতের ক্ষতির করতে পারে যার কারণে গর্ত তৈরি হয়ে যায়।কিন্তু সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার আসলে দাঁতকে দুর্বল করে দিতে পারে। হাড়ের মতো আপনার দাঁতের শক্তি এবং ভালোভাবে দাঁত গঠনের জন্য ক্যালসিয়ামের ওপর নির্ভর করে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url