মেয়েদের ঘাড়ের কালো দাগ দূর করার ক্রিম

মেয়েদের ঘাড়ের কালো দাগ দূর করার ক্রিম সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন?তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। আমরা কম বেশি সবাই মুখের যত্ন করে থাকি। কতই না ক্রিম লোশন ফেসিয়াল এবং ফেসওয়াশ ব্যবহার করে থাকি। মাঝখান থেকে পড়ে যায় আমাদের ঘাড় গলা এমনকি হাত এবং পা। বিশেষ করে শীতকালের চেয়ে গরমকালে এই ধরনের সমস্যা বেশি হয়।
ঘাড়ের কালো দাগ দূর করার উপায়
তার ওপর অনেকেই মুখে যেমন সানস্ক্রিন ব্যবহার করে ঠিক তেমনি ঘাড়ে এবং গলায় সানস্ক্রিম ব্যবহার করেনা। প্রিয় পাঠক আজকে আমার আলোচনার বিষয় মেয়েদের ঘাড়ের কালো দাগ দূর করার ক্রিম সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য নিয়ে।

ভূমিকা

মেয়েদের ঘাড়ের কালো দাগ দূর করার ক্রিম সম্পর্কে জানতে হলে আমার আর্টিকেলের সাথেই থাকুন। ঘাড়ে এবং গলায় বিভিন্ন কারণে কালো দাগ পড়তে পারে। বিশেষ করে রোদের মধ্যে বেশি ঘুরাঘুরি করলে সূর্যের ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মির কারণে বিভিন্ন ধরনের গলা ও ঘাড়ে দাগ পড়তে পারে। আবার অনেকের ওজন বেশি হওয়ার কারণে গলা এবং ঘাড়ে দাগ পড়তে পারে।

মেয়েদের ঘাড়ের কালো দাগ দূর করার ক্রিম

বাইরে বের হওয়ার সময় আমরা মুখের মত যত্ন কখনোই নেই না। আর বাইরে থেকে এসে রোদে ও পরিবেশের ক্ষতি করার প্রভাব আমাদের ফেসে ফুটে ওঠে। যার কারণে আমরা আমাদের গলা এবং ঘাড়কে খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। অগোচরে থেকে যায় আমাদের ঘাড় এবং গলা। নিয়মিত যত্ন নেওয়া না হলে ঘাড়ে কালো দাগ পড়তে পারে।
অনেকের মধ্যে এনার্জি সমস্যা থেকেও ঘাড়ে বিভিন্ন ধরনের দাগ হতে পারে। ঘাড়ের কালো দাগ দূর করার একমাত্র উপায় হচ্ছে নিয়মিত মুখের মত ঘাড়েরও যত্ন নিতে হবে নিতে হবে। কমপক্ষে সপ্তাহে এক থেকে দুইবার কোন প্যাক লাগিয়ে আধাঘন্টা রেখে ধুয়ে ফেললে মোটামুটি এই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। প্রিয় পাঠক চলুন তাহলে জেনে নেই মেয়েদের ঘাড়ের কালো দাগ দূর করার ক্রিম সম্পর্কে বিস্তারিতঃ

Lilac 3X Spot Lighter Cream

Lilac 3X Spot Lighter Creamটি দারুন ভাবে আমাদের ঘাড়ের কালো দাগ দূর করতে পারে। দ্রুত কার্যকরী রেজাল্ট পেতে আপনি এই ক্রিমটি ব্যবহার করতে পারেন। এই ক্রিমের মধ্যে রয়েছে আলফা আরবুটিন,নিয়াসিনামাইড এবংপাম্পকিন সিড অয়েল এর মত উপকারী সব ইনক্রিডিয়েন্স। এগুলোর মাধ্যমে আমাদের ত্বকের বিভিন্ন ধরনের জটিল সব কালো দাগ দূর হয়ে যায়। আমাদের ত্বক করে উজ্জ্বল এবং ময়েশ্চারাইজ।

আলফা আরবুটিন এর কাজ

আলফা আরবুটিন এর প্রধান কাজ হচ্ছে আমাদের ত্বকের মেলানের production কমিয়ে এনে আমাদের ত্বক উজ্জ্বল করা। এছাড়াও এর মাধ্যমে আমাদের ত্বকের কোনরকম সমস্যা ছাড়াই হাইপার পিগমেন্টেশনের সমস্যা কমিয়ে আনতে পারে। পাশাপাশি আমাদের ত্বকের সূর্যের তাপে পোড়ার মতো সমস্যা ও দূর করতে পারে।

নিয়াসিনামাইড এর কাজ

নিয়াসিনামাইড এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ৩। ভিটামিন আলফা আর বুটিন এর মত উপাদান গুলো আমাদের ত্বকের পিগমেন্টেশনের সমস্যা কমিয়ে আনতে পারে এবং আমাদের টপ করে উজ্জ্বল। এছাড়াও আমাদের ত্বকের বিভিন্ন বয়সের দাগ দূর করতে পারে।

পাম্পকিন সিড অয়েল এর কাজ

পাম্পকিন সিড অয়েল এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং মিনারেলস। এছাড়াও এতে রয়েছে ওমেগা থ্রি এবং ওমেগা সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড। এই ইনগ্রেডিয়েন্টস গুলো আমাদের স্কিন টোনকে ব্রাইট করতে সাহায্য করে পাশাপাশি আমাদের স্কিনের বিভিন্ন দাগ দূর করতে পারে। মুখে বিভিন্ন ব্রণের দাগ কমিয়ে ও মুখের র‍্যাশ দূর করতে পারে। 
এই ক্রিমটি ব্যবহার প্রসেস খুবই সহজ। মশ্চারাইজারের মতো এটি ব্যবহার করবেন আপনার শরীরের যে স্থানে কালো দাগ রয়েছে সেই স্থানগুলোতে। এই ক্রিমটি ছেলে মেয়ে উভয় ব্যবহার করতে পারবে। ফেস কিংবা শরীরের যে কোন স্থানে ব্যবহার করা যাবে। হুট করে এই ক্রিম ব্যবহারের ফলে যে হঠাৎ করে এসব দাগ মিলিয়ে যাবে বিষয়টি এরকম নয়।
তবে কিছুদিন ব্যবহার করলে আপনি পরিবর্তন বুঝতে পারবেন। এই ক্রিমটি একদম দেখতে সাদা এবং অল্প একটু নিলেই ত্বকের সাথে খুব সুন্দর ভাবে মিশে যায়। আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যাদের ত্বকের বয়সের চাপ পড়ে যাচ্ছে তাদের জন্য এই ক্রিমটি অনেক বেশি উপকারী। এছাড়াও আমাদের ত্বকে অনেক দিনের পুরনো দাগ তুলতে খুবই ভালো কাজে দিবে এই ক্রিম।
ঘাড়ের কালো দাগ কিংবা কোন এর কালো দাগ তুলতে এটি খুবই হেল্পফুল। এই ক্রিমটি সাধারণত ওই প্রতিদিন দুইবার ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া মেয়েদের ঘাড়ের কালো দাগ দূর করার জন্য ঘরোয়া কিছু উপায় রয়েছে।সেগুলো হচ্ছেঃ

লেবুর রস

ঘাড়ের কালো দাগ দূর করতে লেবুর রস খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক উপাদান। আমরা সবাই জানি লেবুর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি এবং এটি আমাদের সবার বাড়িতে রয়েছে। আপনি যখন বাইরে থেকে আসবেন তখন প্রথমে হাতটা ভালো করে ধুয়ে নিয়ে তারপর একটা লেবু কেটে নিয়ে সেটার রস খুব ভালোভাবে ঘাড়ে ঘষে নিতে হবে।
এভাবে 15 থেকে 20 মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর আরেকটি লেবুর রস বের করে নিয়ে এর সাথে এক চামচ চিনি মিশিয়ে ভালোভাবে আপনার ঘাড়ে এবং গলার ভাঁজে লাগিয়ে রাখুন। এরপর ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এটা আপনার ঘাড়ের এবং গলার ন্যাচারাল স্ক্রাব এর কাজ করবে।
আর বাকি অর্ধেক লেবুর সাথে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে এত সুন্দর পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার এই পেস্টটি আপনার ঘাড়ে এবং গলার কালো দাগের উপর লাগিয়ে কমপক্ষে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তিরিশ মিনিট পরে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে আপনার হাত ও পা ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এতে করে আপনার ঘাড়ের এবং গলার দাগ সহ বিভিন্ন রকমের কালো দাগ দূর হয়ে যাবে খুব সহজেই।

চালের গুড়া এবং তরমুজের রস

ঘরোয়া উপায় ঘাড়ের কালো দাগ দূর করতে চালের গুড়া এবং তরমুজের রস খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক উপাদান। কয়েক টুকরো তরমুজ নিয়ে ব্লেন্ডারে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিয়ে তার সাথে এক টেবিল চামচ চালের গুঁড়া মিশিয়ে নিন। এরপর ভালোভাবে একটি পেস্ট তৈরি করে গোসল করার কমপক্ষে 15 থেকে 20 মিনিট আগে এটা আপনার ঘাড়ে লাগিয়ে রাখুন।
হালকা একটু শুকিয়ে আসলে ভালোভাবে ঘষতে থাকুন। এতে করে আপনার ঘাড়ের কালো দাগ দূর হয়ে যাবে খুব সহজে। এভাবে কমপক্ষে সপ্তাহে তিনদিন করতে হবে। তাহলে আপনি একটি ভাল ফলাফল পাবেন।

হলুদের গুঁড়া

ঘরোয়া উপায়ে ঘাড়ের এবং ত্বকের যেকোনো কালো দাগ দূর করতে হলুদের গুড়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান এটা আমরা অনেকেই হয়তোবা জানি। আমাদের ঘাড়ের কালো দাগ দূর করতে হলুদের গুড়ার কোন বিকল্প নেই। প্রথমে এক চামচ হলুদ গুঁড়া করে নিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে নিন কফি কালার না হওয়া পর্যন্ত।
এরপর একটি পরিষ্কার বাটিতে তুলে নিয়ে সেখানে এক চামচ লেবুর রস মিক্স করে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। তারপর আপনার হাত পায়ের কালো জায়গায় এটি সুন্দর করে লাগিয়ে রাখুন এবং ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। হালকা করে শুকিয়ে আসার পর সেখানে আরেকটু লেবুর রস দিয়ে ভালোভাবে স্ক্রাব করতে থাকুন।
এভাবে সপ্তাহে অন্তত দুইদিন করে দেখুন আপনার ঘাড়ের কালো দাগ দূর হয়ে যাবে খুব সহজেই এবং আপনার ঘাড় এবং গলা আরো টানটান ও উজ্জ্বল দেখাবে।এভাবে আপনি খুব সহজেই ঘরে থাকা উপাদান দিয়ে আপনার ঘাড়ের কালো দাগ দূর করতে পারবেন।

অ্যালোভেরা জেল

অনেকের বাসায় এলোভেরা জেল রয়েছে এবং এই এলোভেরা জেল বিভিন্ন কাজে লাগে। একটি অ্যালোভেরা গাছ থেকে কেটে এনে ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে এটি কেটে জেল বের করে নেন। এবার এটা ঘাড়ের কালো জায়গা গুলোতে লাগিয়ে রাখুন অন্তত ৪০ মিনিট। এরপর আপনার ঘাড় ভালোভাবে কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে নিন।
দেখবেন আপনার ঘাড় অনেক টান টান ও মসৃণ হয়ে গেছে। তবে আমাদের মধ্যে অনেকের এলার্জির সমস্যা রয়েছে অনেক বেশি। এলার্জি সমস্যা থাকলে এই ক্ষেত্রে আপনি বাজার থেকে প্যাকেট অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও এলোভেরা গাছের সাথে আপনি শসার রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে সেটি হাত পায়ে মাসাজ করতে পারেন।
এতে করে হাত ঘাড়ের কালো দাগ এবং রোদে পোড়া দাগ দূর হয়ে যাবে। অথবা আপনি এলোভেরা জেল রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঘাড়ে লাগিয়ে ঘুমিয়ে যেতে পারেন।

বেসন এবং কফি

আমাদের ঘাড়ের এবং মুখের ত্বক পরিষ্কার রাখতে বেসনের কোন জুড়ি নেই। বেসন ব্যবহার করে আপনি মাত্র এক সপ্তাহে পেতে পারেন লাবণ্য উজ্জ্বল ত্বক এবং হাতপা,ঘাড় ও গলা।বেসনের পেস্ট তৈরি করতে সর্বপ্রথম আপনাকে ২ টেবিল চামচ বেসন এক চামচ হলুদের গুঁড়া এবং দুই টেবিল চামচ কাঁচা দুধ সাথে একটু গোলাপ জল, কফি এবং লেবুর রস মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন।
এরপর আপনার ঘাড়ে লাগিয়ে কমপক্ষে 15 থেকে 20 মিনিট অপেক্ষা করুন। এটি যখন হালকা করে শুকিয়ে আসবে তখন সামান্য লেবুর রস বা মধু নিয়ে ভালোভাবে ঘষতে থাকুন। সপ্তাহে দুবার এটি ব্যবহার করলে আপনার ঘাড়ের জেদি কালো দাগ দূর হয়ে যাবে। এবং আপনার ঘাড় উজ্জ্বল ও ফর্সা এবং টানটান হবে।

টক দই

টক দই কমবেশি আমাদের অনেকের পছন্দের। এটি খেতে অনেকে খুব বেশি পছন্দ করে। আমাদের শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী উপাদান টক দই। টক দই খেলে আমাদের শরীর ঠান্ডা থাকে। শুধু খাবারের দিকে নয় বরং আমাদের রূপচর্চা এবং চুলের যত্নে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান।
প্রতিদিন গোসল করার আগে টক দই এর সাথে এক চামচ মধুর নিচে ভালোভাবে পেস্ট তৈরি করে নিয়ে সেটি আপনার ঘাড়ে মাসাজ করুন।টানা একমাস করলে ধীরে ধীরে আপনার মুখসহ ঘাড়ের সমস্ত কালো দাগ দূর হয়ে যাবে। তবে ভালো ফলাফল পেতে টক দই সাথে লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন।

পাকা পেঁপে

ঘাড়ের কালো দাগ দূর করতে পাকা পেঁপে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর একটি উপাদান। পাকা পেঁপে আমাদের ত্বকের রোদে পোড়া দাগ ও কালচে দাগ দূর করতে সাহায্য করে। তাই ঘাড় পরিষ্কার রাখতে পাকা পেপে কে ভালোভাবে চোটকে নিন। এর সাথে এক চামচ এলোভেরা জেল এবং মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।
তারপর সবগুলো উপাদান একসাথে ভালোভাবে মিক্স করে নিয়ে সেটি আপনার ঘাড়ে ঘষে ঘষে লাগাতে থাকুন। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটা গোসলের আগে করলে সবচেয়ে ভালো হবে। এটি ততদিন পর্যন্ত করতে থাকুন যতদিন পর্যন্ত না আপনি একটি ভাল ফলাফল পাচ্ছেন।

কমলার খোসা

কমলা আমাদের কম বেশি অনেকের প্রিয় একটি ফল। শুধু খাওয়া দাওয়ার ক্ষেত্রে নয় বরং এটি ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। কমলার খোসা আমাদের ত্বকের কালকে ভাব দূর করে এবং ত্বকের ময়লা ভেতর থেকে পরিষ্কার করে দেয়। প্রথমে কমলার খোসা ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিন। খোসা শুকিয়ে গেলে এটি ভালো হবে ব্লেন্ড করে পাউডার তৈরি করে নিন।
তারপর এর সাথে কাঁচা দুধ এবং ভালোভাবে পেস্ট তৈরি করে নিন। পেস্ট তৈরি করা হয়ে গেলে এটি ঘাড়ে ভালোভাবে লাগিয়ে দিন। তারপর ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে দিন। তারপর মুছে নিয়ে মশ্চারাইজার লাগিয়ে রাখুন। এই মাস্কটি আপনার ঘাড়ের ময়লা দূর করে দেবে এবং ফর্সা ও উজ্জ্বল করবে। ভালো ফলাফল পেতে এটি কমপক্ষে সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করতে হবে।

টমেটো

টমেটো একটি শীতকালীন সবজি হলেও আজকাল সব ঋতুতেই এই টমেটো পাওয়া যাচ্ছে। টমেটোর রসের রয়েছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং উপাদান। টমেটোর রস দুই চামচ এবং দুধের সর এক চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। এরপর এটি তুলার সাথে হাত ও পায়ে লাগিয়ে রাখুন। কমপক্ষে চল্লিশ মিনিট পর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করতে পারেন।

আলুর রস

আমরা সকলেই জানি আলুর রস আমাদের মুখের ময়লা কাটে এবং ত্বক রোদে পোড়া দাগ এবং কালো দাগ দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।প্রথমে আলু ভালোভাবে ধুয়ে গ্রেট করে নিয়ে এর মধ্যে থেকে আলুর রস বের করে নিন। এরপর এর মধ্যে এক টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ১৫ মিনিটের জন্য ঘাড়ে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

দুধে ভিজিয়ে রাখুন

দুধে প্রচুর পরিমাণে ল্যাকটিক এসিড রয়েছে যা আমাদের হাত পা,ঘাড় এবং মুখের ত্বক সুস্থ রাখে। এটি শুধুমাত্র ত্বকের কালকে দাগ দূর করতে সাহায্য করে না বরং এটি আমাদের ত্বক ও হাত পা এবং ঘাড় মসৃণ করতে সাহায্য করে। একটি পাত্রে ঠান্ডা দুধ নিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট দুধ দিয়ে আপনার ঘাড় ভিজিয়ে রাখুন। এরপর তুলে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিন। তারপর একটি ভালো মশ্চারাইজার লাগিয়ে রাখুন।

ময়দার প্যাক ব্যবহার

ময়দা আমাদের পায়ের ত্বকে কালকে দাগ দূর করতে সাহায্য করে। টমেটোর রসের সঙ্গে ময়দা, লেবুর রস এবং শসার রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে সেটি হাত ও পায়ে লাগিয়ে রাখুন। তারপর হালকা হাতে মাসাজ করে দশ মিনিট পর পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

আপেল সিডার ভিনেগার

এটিই কমবেশি রান্নার কাজে সকলে ব্যবহার করে থাকেন। আপেল সিডার ভিনেগার শুধুমাত্র রান্নার কাজেই নয় বরং এটি আমাদের ঘাড়ের কালচে ভাব দূর করতে এবং যাবতীয় সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এর ভিটামিন এবং মিনারেল আমাদের হাত ও পায়ের এবং গলা,ঘাড়ের ত্বক উজ্জ্বল করে।
ভিনেগার এর সঙ্গে সমান পরিমাণে পানি মিশিয়ে ঘাড় ভিজিয়ে রাখুন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখার পরে এই হালকা হাতে মাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। তারপর অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না। এভাবে সপ্তাহে একদিন করে দেখুন আপনার ঘাড়ের কালো দাগ দূর হয়ে যাবে।

ব্রেকিং সোডা ও দুধ

ঘাড়ের ত্বক দাগহীন করতে বেকিং সোডা এবং দুধের কোন বিকল্প নেই। দুধের সঙ্গে সামান্য পরিমাণ ব্রেকিং সোডা মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে সেটি আপনার ঘাড়ে লাগিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট রেখে দিন এবার ভালোভাবে ধুয়ে মশ্চারাইজার লাগিয়ে রাখুন।

মুলতানি মাটি এবং গোলাপ জল

মুলতানি মাটির ব্যবহার অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। মুলতানি মাটি আমাদের ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে এবং রোদে পোড়া ভাব দূর করতে পারে। অন্যদিকে গোলাপজলের মধ্যে রয়েছে এন্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান যা আমাদের ত্বকের বিভিন্ন ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
মুলতানি মাটির সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে একটি পেজ তৈরি করে সেটি ঘাড়ে লাগিয়ে রাখুন। কমপক্ষে 15 থেকে 20 মিনিট লাগিয়ে শুকানোর অপেক্ষা করুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার সময় হালকা হাতে মাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন এবং মশ্চারাইজার লাগাতে অবশ্যই ভুলবেন না।

ঘাড়ে কালো দাগ কেন হয় এবং এর প্রতিকার কি

ঘাড় এবং গলার বিভিন্ন ধরনের কালো দাগ মূলত ওজন বেশি হওয়ার কারণে হয়ে থাকে। জিনগত কারণেও এই ধরনের দাগ হতে পারে। এছাড়াও ডায়াবেটিস, রক্তচাপ এবং হাইপারথাইরয়েডিজম থাকলে এই ধরনের কালো দাগ হওয়ার প্রবণতা বেশি হয়। ঘাড় এবং গলায় প্রখর রোধ করলেও সানবান হয়ে জেদি কালো দাগ হতে পারে। আবার অনেক সময় মোটা চেন পরলেও কালো দাগ হয়।
এছাড়াও কম দামে বা নিম্নমানের পাউডার, পারফিউম কিংবা লোশন ব্যবহারের কারণে এ ধরনের কালো হতে পারে। আবার অনেকে যারা চুলের রং করে সেই চুলের রং করার সময় চুলের রং এর বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান গলা এবং ঘাড়ে লেগে যায়। তারপর থেকে ধীরে ধীরে ঘাড়ের এবং গলার ত্বক কালো হতে পারে।
গলা এবং ঘাড়ের কালো দাগ প্রতিরোধ করতে হলে সর্বপ্রথম সঠিক খাদ্য এবং ব্যায়ামের প্রয়োজন। সবার প্রথমে শরীরের ওজন কমাতে হবে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসা করাতে হবে। এছাড়া ঘাড়ের কালো দাগ দূর করতে বেশ কিছু ওষুধ রয়েছে। সেগুলো আপনি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন। ঘাড়ে কালো দাগ দূর করার জন্য বিভিন্ন টিপস ওপরে দেওয়াই রয়েছে। সে অনুযায়ী আপনি যত্ন করতে পারেন।

পাঠকের শেষকথা

প্রিয় পাঠক এতক্ষণ ধরে আমরা জানলাম মেয়েদের ঘাড়ের কালো দাগ দূর করার ক্রিম সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য।আশা করছি আজকের এই পোস্টটি পড়ে আপনারা উপকৃত হয়েছেন।যদি আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন।তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করবেন।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন।আজকে এই পর্যন্তই।দেখা হবে পরের কোন পোস্টে।
আজকের এই পোস্টে যদি আপনার কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন।এধরনের আরো আর্টিকেল পড়তে এবং বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে আমার ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।আর এতক্ষণ ধরে আমার আর্টিকেলের সাথে থাকার জন্য সকলকে ধন্যবাদ।আসসালামু আলাইকুম।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url