ঘি খেলে কি মোটা হয়-গর্ভাবস্থায় ঘি খাওয়ার উপকারিতা

ঘি খেলে কি মোটা হয়-গর্ভাবস্থায় ঘি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে অনেকেই জানতে চান।বিভিন্ন খাবারের স্বাদ এবং সুগন্ধ বাড়াতে ঘি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে তাই না? শুধু খাবারের স্বাদ এবং গন্ধ বাড়াতে নয় বরং এটি আমাদের বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের মধ্যে অনেকেই ওজন বেড়ে যাওয়ার জন্য খাবারের তালিকা থেকে ঘি বাদ দিয়ে ফেলে। কিন্তু ঘি খেলে যে ওজন বাড়ে সেটা ভুল ধারণা।
গরম ভাতের সাথে ঘি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
বিজ্ঞানীদের মতে, ঘি তখনই আমাদের শরীরের ওজন বাড়ায় যখন আমরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘি খেয়ে ফেলি।প্রিয় পাঠক আজকে আমার আর্টিকেলের বিষয় ঘি খেলে কি মোটা হয়-গর্ভাবস্থায় ঘি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য নিয়ে।

ভুমিকা

আপনি কি জানতে চাচ্ছেন ঘি খেলে কি মোটা হয়-গর্ভাবস্থায় ঘি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে?তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। প্রতিদিন ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সামান্য ঘি খেলে মিলবে আপনার শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকার। ঘিয়ের পুষ্টি গুণের কথা চিন্তা করে এটিকে সোনার সাথে তুলনা করা হয়েছে। তবে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয় এটি বাচ্চাদের অনেক উপকার।

ঘি খেলে কি মোটা হয়-গর্ভাবস্থায় ঘি খাওয়ার উপকারিতা

প্রাচীনকাল থেকে খাবারের সাথে ঘি খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। কিন্তু আজকাল বাবা-মা অনেক বেশি সতর্ক হয়ে যাওয়ার কারণে বাচ্চাদের অনেক সময় ঘি খাওয়াইনা। প্রিয় পাঠক চলুন তাহলে দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক গরম ভাতের সাথে ঘি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্যঃ

ঘি খেলে কি মোটা হয়

আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করে যে ঘি খেলে মানুষ মোটা হয়ে যায়। এজন্যই ওজন কমানোর কথা আসলেই সর্বপ্রথম ডায়েট চার্ট থেকে ঘি বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু ঘি খেলে কি আসলে মানুষ মোটা হয়? এটা নিয়ে আমাদের মনে বিভিন্ন দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। প্রিয় পাঠক চলুন তাহলে জেনে নেই এই বিষয়ে সব প্রশ্নের উত্তর এবং পুষ্টিবিদের মতামত।
ঘি খাওয়া আসলে আমাদের শরীরের ওজন বৃদ্ধি হওয়ার কারণ নয়। তবে এটা সত্য যে উচ্চমাত্রার ক্যালোরি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে ঘি এর মধ্যে। যা আসলে আমাদের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার জন্য উপকারী। অন্যদিকে এটি আমাদের পরিপাকনালীর স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। এটি আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে যার কারণে আমাদের শরীরের ওজন বাড়তে পারে না।
তবে পরিমিত পরিমানে দিন খেতে হবে। পরিণত পরিমাণে ঘি খেলে এটি আমাদের স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হতে পারে। একদিনে দুই থেকে তিন চামচের বেশি ঘি খাবেন না। তবে আপনার যদি ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকে তাহলে ঘি ব্যবহারে নিষেধ করে থাকে চিকিৎসকরা।
ঘি একদিকে আমাদের খাবারের স্বাদ বাড়াতে পারে অন্যদিকে আমাদের শরীরের বিভিন্ন পুষ্টিকর জোগাতে পারে। অনেক সময় বাজারে পাওয়া গিয়েছে পুষ্টি উপাদান  তুলনামূলক কম থাকে। তবে আপনি যদি বাড়িতে ঘি তৈরি করতে পারেন তাহলে সেখানে প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান পাওয়া যাবে।

ঘি খাওয়ার উপকারিতা

আমাদের শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে

কে না চায় শরীরের শক্তি বেশি করে শরীরকে সুস্থ রাখতে! শরীরে শক্তি বৃদ্ধি করতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই আপনাকে ঘি যোগ করতে হবে। কারণ এটি আমাদের শরীরের পরিপূর্ণ পুষ্টি যোগান দিতে সক্ষম। তবে এটি ওজনের সাথে সমন্বয় করে খাওয়াই ভালো। যে কোন খাবারের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত খেলে যেমন সমস্যা হয় ঘি এর ক্ষেত্রেও ঠিক একই বিষয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধি করতে ঘিয়ের কোন বিকল্প হয় না। গরম ভাতে ঘি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে অবশ্যই আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। যারা প্রায়ই খুব বেশি অসুস্থ হয়ে যায় তারা গরম ভাতের সাথে ঘি খেতে পারেন। কেননা ঘি খেলে বিভিন্ন অসুখের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বিভিন্ন পুষ্টিবিদদের মধ্যে ঘিয়ের মধ্যে থাকে বাটরিক এসিড। যার কারণে এটি আমাদের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে

আমাদের শরীরের আদ্রতা সঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে ঘি। ঘি এর মশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য আমাদের শরীরকে ভেতর থেকে আদ্র রাখতে পারে। যেকোনো কারণে আমাদের শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি গরম ভাতের সাথে ঘি খাওয়ার অভ্যাস করুন। কেননা ঘিয়ের মধ্যে আছে এন্টি ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য। তবে ঘি এর সাথে হলুদ মিশিয়ে খেলেও উপকার পাবেন।

হজম ক্ষমতা ভালো রাখে

ঘি খেলে আমাদের হজম ভালো হয় এটা হয়তো আমাদের মধ্যে অনেকেই জানেন। হজমের উন্নতি এবং পুষ্টির মান শোষণে কাজ করে থাকে ঘি। এর মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ বিউটারিক এসিড যা ইন্সটেটাইনর কার্যক্ষমতা বাড়াতে পারে। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারের সঙ্গে ঘি নিচে খেলে আমাদের শরীরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সামান্য পরিমাণ হলেও কমে। যার কারণে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।

হার্টের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে

ঘি এর অন্যতম একটি বড় গুনাগুন হচ্ছে এতে সহনীয় মাত্রার সার্টিফাইড সেচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা আমাদের উপকারি ফ্যাট দ্বারা গঠিত। যা আমাদের শরীরের শিরা-উপশিরা শহর ধমনীর ক্ষতিকারক স্যার দূর করে আমাদের হার্টের ব্লক হওয়া বন্ধ করতে সাহায্য করে এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করে।
এতে পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্ত সরবরাহ হয় এবং হৃদপিন্ডের সংকোচন-প্রসারণ স্বাভাবিক রাখতে পারে। যার কারণে হৃদপিন্ডের কোনো অসুখ থাকে না। এজন্য আমাদের হার্টের কার্য ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং হার্ট সুস্থ করতে ঘি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

ভিটামিন এবং মিনারের সমৃদ্ধ

ঘি এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, কে এবং দ্বিসহ ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ও জিংক সহ অন্যান্য মিনারেল উপাদান। যা আমাদের শরীরের গঠন, বৃদ্ধি এবং সুস্বাস্থ্য ধরে রাখার জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজন। এগুলো আমাদের শরীরের বিভিন্ন কোষের পরিচর্যা করার পাশাপাশি রক্ত উৎপাদন বাড়ায় এবং অস্থিমজ্জা ঠিক রাখে, হাড় গঠনে সাহায্য করে এবং শক্তিশালী করে।যার কারণে আমাদের দেহের শক্তি বৃদ্ধি পায়।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

ঘি একটি নরম খাবার যাতে অসম্ভব পরিমাণে বিভিন্ন অনুজীব রয়েছে। এগুলো আমাদের হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে ও শক্ত খাবার ভেঙে নরম করে। এছাড়াও এটি পাকস্থলীর দূষিত গ্যাস এবং অম্লতা দূর করে যা আমাদের হজম হওয়ার পরে বজ্রগুলোকে নরম করে। এবং আমাদের বজ্র নিষ্কাশনে কোনরকম সমস্যা হয় না এবং খাদ্য প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে।
কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে শুরু করে আমাদের মনকে সুস্থ রাখা পর্যন্ত সবকিছুতে ঘিয়ের অবদান রয়েছে। সাধারণত ঘি এবং টক দই আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাসের ট্যাবলেট হিসেবে কাজ করে থাকে যা আমাদের অতিরিক্ত গ্যাসের সমস্যা নিধন করতে পারে। কারে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে গিয়ে খেলে আপনার অনেক উপকার মিলবে।

ফ্যাটি এসিড সরবরাহ করে

ঘি এর মধ্যে রয়েছে কনজুগেটেড লিনলিক এসিডের পাশাপাশি ওমেগা থ্রি এবং ওমেগা নাই আমাদের দেহের প্রতি ক্ষতিকারক ফ্যাট দূর করতে সাহায্য করে এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারে। কোন প্রকারের ক্ষতি ছাড়ায় আমাদের শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে পারে ঘি।এছাড়া ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের গঠন ত্বরান্বিত করে এবং হরমোন উৎপাদন এবং নিঃসরণকে স্বাভাবিক রাখতে পারে। এজন্য প্রতিদিন পরিণত পরিমানে ঘি খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী।

রোগ নিরাময়ে পুরাতন ঘি

সাধারণত পুরাতন ঘি ব্যবহার করে মহিলাদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা নিরসন করা হয়। এছাড়াও এটি মাথা চোখ কান এবং গলার বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে একই অবস্থার থাকার কারণে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় যা সর্দি কাশি এবং নিউমোনিয়া নিরাময় করতে কাজ করে।ঘি যত পুরাতন হয় তার পুষ্টিগণ তত বেশি শক্তিশালী হয়।

মানসিক রোগের চিকিৎসায়

আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে বিভিন্ন ধরনের মানসিক রোগের চিকিৎসা যেমনঃ মৃগী রোগ, সিজোফ্রেনিয়া এবং বিষন্নতা নিরাময় করার জন্য পুরাতন ঘি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মানসিক রোগ সমাধানের বিষয়ে পুরাতন ঘি অনেক বেশি কার্যকর বলে জানা যায়। এই প্রক্রিয়া সেই প্রাচীন আমল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে।

অন্ত্র ভালো রাখে

ঘি আমাদের কোষ্ঠকাঠিনের মত সমস্যা, পেট ফাঁপা কিংবা হজমের সমস্যা দূর করতে পারে। এজন্য আমাদের অন্ত্র ভাল রাখতে ঘি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। একদম ভেতর থেকে আমাদের অন্ত্রকে আদ্র রাখতে সাহায্য করে।

চুলের মান উন্নত করে

আমাদের চুলের মান উন্নত করতে ঘি খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমাদের শুষ্ক চুলের সমস্যার সমাধানে ঘি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। তাই বলে গিয়ে একবারে চুলে মাখতে যাবেন না। সকালে খালি পেটে কি খেলে কাজ হবে। কেননা এর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি গুনাগুন। এর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন অ্যামিনো এসিড, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, ওমেগা সিক্স ফ্যাটি এসিড যা আমাদের চুলের ফলি ফলে পুষ্টি পৌঁছে দিতে সহায়তা করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে

ঘিয়ের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অমেগা থ্রি ফাটি এসিড। যা আমাদের পেটের চর্বি কমাতে ভীষণভাবে সাহায্য করে থাকে। এজন্য বলা যায় কি আমাদের ওজন বাড়াতে নয় বরং আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে।

ত্বকের জেল্লা ধরে রাখে

ঘি এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের ত্বকের বয়সের ছাপ কমাতে পারে।ত্বক করে তোলে আরো মসৃণ এবং জেল্লাদার। এছাড়া মানসিক চাপ এবং অবসাদের কারণে অনেকের রাতে ঘুম আসতে চায় না এবং সারাদিন ক্লান্ত লাগে শরীর। ঘি খাওয়ার ফলে আমাদের অনিদ্রার সমস্যা দূর হয়ে যায় খুব সহজেই।

গর্ভাবস্থায় ঘি খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় ঘি খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো জানে না গর্ভাবস্থায় ঘি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে। ভারতীয় সংস্কৃতিতে ঘি একজন গর্ভবতী মহিলাকে বিভিন্নভাবে উপকৃত করে বলে জানা যায়। সেগুলো হচ্ছেঃ
  • ঘি গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য মুক্তি দিতে পারে।
  • এটি আমাদের শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তা করতে পারে।
  • এটি একজন গর্ভবতী মহিলার হজম ক্ষমতা কে উন্নত করতে পারে।
  • গর্ভাবস্থায় সাধারণত দুই থেকে তিন চামচ ঘি আপনার খাদ্য তালিকায় যোগ করতে পারেন।
  • এছাড়াও ঘি আমাদের মানসিক চাপের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। যেহেতু একজন গর্ভবতী মহিলার উপর দিয়ে সব সময় মানসিক চাপ যায় এজন্য ঘি গর্ভবতী মহিলাদের জন্য উপকারী।
  • ঘি গর্বে থাকা শিশু সঠিক বৃদ্ধি এবং শিশুর মস্তিষ্কের গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও শিশুর হাড় বিকাশে সহায়তা করে।

ঘি খাওয়ার উপযুক্ত সময়

আমাদের মধ্যে অনেকেই ঘি খেতে খুব বেশি পছন্দ করে আবার অনেকে এর গন্ধ নিতে পারেনা। তবে নিঃসন্দেহে ঘি আমাদের শরীরের জন্য উপকারী। তবে ঘি খাওয়ার উপযুক্ত সময় সম্পর্কেও আমাদের প্রত্যেকের জানা উচিত।কেননা যখন তখন যে সে সময়ে ঘি খেলে এর যথাযথ উপকার আমরা পাব না। বিজ্ঞানীদের মতে, ঘি খাওয়ার উপযুক্ত সময় হচ্ছে সকালবেলা খালি পেটে।
এ সময় ঘি খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। তবে খালি পেটে না খেতে চাইলে সকালে রুটি কিভাবে গরম ভাতের সাথে খেতে পারেন।এতে করে আলাদা করে ঘি না খেয়ে তরকারির সাথে মিশিয়ে খেতে পারবেন। তবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য খালি পেটে একবার দুই চামচ ঘি খাওয়া অনেক বেশি উপকারী।প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি সম্পূরক খাদ্য হিসেবে শিশুদের জন্য অনেক উপকারী।
তবে অবশ্যই সকালে ঘি খাওয়ার সময় পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।তা না হলে পেটের বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে।সর্বোপরি খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে সকালে খালি পেটে। উপরিক্ত আলোচনায় ঘি কিভাবে আমাদের খাদ্য ভূমিকা রাখে এবং আমাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। প্রাপ্ত বয়স্ক থেকে শুরু করে শিশুরাও খেতে পারবে।
তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই ঘি খাঁটি এবং ভালো মানের হতে হবে।কেমিক্যাল যুক্ত কোন কিছুই আমাদের শরীর এবং স্বাস্থ্যের উপকার বয়ে আনে না। এজন্য খাওয়ার আগে খাটি ঘি নির্ণয় করা জরুরী।ঘিয়ের এর জন্য বিখ্যাত হল পাবনা জেলা।কারণ পাবনা জেলার পদ্মা নদীর চরে বেড়ে ওঠা দেশি গরুর খাঁটি দুধ দিয়ে তৈরি বিখ্যাত ঘি পাওয়া যায়।এজন্য আপনারা খাটি ঘি খেতে চাইলে অবশ্যই পাবনা থেকে নিয়ে এসে খাবেন।

ঘি খেলে কি গ্যাস হয়

ঘি খেলে কি গ্যাস হয় কিনা সেটা নিয়ে আমাদের মনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। গিয়ে আসলে দুগ্ধজাত জাতীয় একটি খাবার। এজন্য কি অনেকে সহ্য করতে পারে না। বিশেষ করে যাদের এসিডিটির সমস্যার রয়েছে তারা দুগ্ধ জাত খাবার সেবন করলে এসিডিটির সমস্যা আরো বেড়ে যায়।এজন্য যারা রোজ রোজ অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগেন কিংবা পেটে আলসারের সমস্যার রয়েছে তাদের অবশ্যই মেপে মেপে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঘি খেতে হবে।
প্রতিদিন হাফ চামচ বা এক চামচ ঘি খেতে পারেন। তবে এর চেয়ে বেশি খেলে সমস্যা আরো বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। এছাড়াও আজকাল বাজারের ঘিয়ের মধ্যে রয়েছে প্রচুর ভেজাল যা আমাদের শরীরে বিভিন্ন বিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে আমাদের পেট খারাপ থেকে শুরু করে আরো বড় বড় অসুখের ফাঁদে পরার সম্ভাবনা রয়েছে।

গরম ভাতের সাথে ঘি খাওয়ার উপকারিতা

গরম ভাতের সাথে ঘি খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। অনেক ধরনের উপকারসহ আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগ মুক্তি সম্ভব গরম ভাতের সাথে ঘি খেলে।
  1. ঘি খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে।ঘিয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট। এজন্য সব সময় ভেবেচিন্তে কি খেতে হবে। অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া যাবেনা।
  2. গরম ভাতের সাথে ঘি খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হবে। যা আমাদের চোখ এবং ব্রেনের জন্য খুবই উপকারী। পাশাপাশি এর মধ্যে রয়েছে আরও বিভিন্ন পুষ্টি গুনাগুন।
  3. গিয়ে এর মধ্যে থাকা মশ্চারাইজার উপাদান আমাদের শরীরের আর্দ্রতা বাড়িয়ে পানি শূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। যদি কোনো কারণে পানির ঘাটতির সমস্যা দেখা যায় আমাদের শরীরে তাহলে গরম ভাতের সাথে ঘি খেতে হবে।
  4. ঘিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিউটারিক অ্যাসিড যা আমাদের হজম শক্তি পাঠাতে পারে। পাশাপাশি পুষ্টি উপাদান শোষণে কাজ করে থাকে। অর্থাৎ গরম ভাতের সাথে ঘি খেলে আমাদের শরীরে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অল্প হলেও কমবে যার ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী।
  5. গরম ভাতের সাথে কি খেলে আমাদের শরীর ও মন সতেজ থাকে সবসময়। আসলে ঘি আমাদের শরীরের মধ্যে এক ধরনের শীতলতা নিয়ে আসে। এটি আমাদের শরীরের বিভিন্ন প্রদাহ কমায় এবং শরীরকে শিথিল করতে পারে।
  6. প্রতিদিন গরম ভাতের সাথে কি খেলে আমাদের অনেক শক্তি অনুভূত হয় এবং দিনভর পরিশ্রম করার শক্তি আমরা পেয়ে যাই। যারা অল্প কাজ করে অনেক বেশি হাঁপিয়ে ওঠে তাদের জন্য ঘি অনেক উপকারী। এটা আমাদের শরীরে এক ধরনের ইমিউনিটি বুস্টার হিসেবে কাজ করে থাকে। আর আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে গেলে আমরা সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি পাব।
  7. বিয়ের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ক্যালসিয়াম যার কারণে আমাদের হাড়ের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

বাচ্চাদের ঘি খাওয়ানোর নিয়ম

প্রিয় পাঠক এতক্ষণ ধরে আমরা জানলাম ঘি খাওয়ার সময় এভাবে উপকারিতা সম্পর্কে। তবে অভিভাবক অনেকের প্রশ্ন থাকে বাচ্চাদের ঘি খাওয়ানোর নিয়ম সম্পর্কে। বাচ্চাদের ঘি খাওয়ানোর নিয়ম হচ্ছে খাবারের সঙ্গে হালকা গরম পানি দিয়ে সাথে দুই চামচ ঘি মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।এতে করে বাচ্চাকাচ্চার কাছে অথবা হজমের সমস্যা থাকলে সেটা দূর হয়ে যাবে।
ছয় মাসের পর থেকে নিয়ম করে বাচ্চাদের মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবারের অল্প পরিমাণে ঘি খাওয়াতে হবে।বাচ্চাদের দৈহিক গঠন সেই সময় থেকে বাড়তে থাকে যার কারণে তখন ক্যালরি প্রয়োজন হয় বেশি। তাই ঘি খাওয়ালে ক্যালোরি ঘাটতি পূরণ হয়।শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে ঘি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
অন্যদিকে বাচ্চাদের শরীরে চুলকানি বা বিভিন্ন একজিমা ফুসকুড়ি থাকলে আক্রান্ত স্থানে গিয়ে মাখিয়ে রাখলে উপকার পাওয়া যায়।কারণ ঘিয়ের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি মাইক্রোব্রিয়াল উপাদান যা জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে।এক বছর বয়সী বাচ্চাদের খেতে প্রতিদিন এক চামচ ঘি, দুই বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য প্রতিদিন এক থেকে দুই চামচ পরিমাণ ঘি এবং তিন বছর বয়সী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে আপনি প্রতিদিন দুই থেকে তিন চামচ ঘি খাওয়াতে পারবেন।
তবে অতিরিক্ত ঘি খাওয়ালে বাচ্চাদের বেড়ে যেতে পারে বা হজমের সমস্যা হতে পারে। যার কারণে অবশ্যই পরিমাণ মতো ঘি খাওয়াতে হবে আর অতিরিক্ত এলার্জির সমস্যা থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঘি খাওয়াতে হবে। প্রতিটি বাচ্চা তার শরীরের অবস্থা একে অপরের থেকে আলাদা।তাই আপনার শিশুর জন্য কতটুকু পরিমান ঘি উপযুক্ত তার নির্ধারণ করার জন্য অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে পারেন।

রূপচর্চায় ঘি এর ব্যবহার

যাদের স্ক্রিন অনেক বেশি শুষ্ক তারা চাইলে ঘি এর সাথে পানি মিশিয়ে এটি মশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার জন্য সারারাত ঘি দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। এতে করে ঠোঁট নরম থাকবে এবং ঠোঁটের কালো দাগ দূর হয়ে যাবে। এছাড়াও আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য কিংবা টানটান রাখার জন্য এক চামচ ঘি,এক চামচ বেসন এবং হলুদ দিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে রাখুন।
এছাড়াও যারা সুস্থ চুলের সমস্যায় ভুগছেন বা আগা ফেটে গেছে অনেক বেশি তারা চাইলে ঘি, টক দই এবং পাকা কলা একসাথে মিক্স করে একটি পেস্ট বানিয়ে চুলে লাগাতে পারেন।তাহলে চুলের আদা ফাটা বন্ধ হবে এবং চুল ন্যাচারালি সিল্কি এবং নরম হবে।সপ্তাহে একদিন ঘি দিয়ে ফেসপ্যাক বানিয়ে মুখে লাগালে বয়সের ছাপ কমে যায়।

পাঠকের শেষকথা

প্রিয় পাঠক এতক্ষণ ধরে আমরা জানলাম ঘি খেলে কি মোটা হয়-গর্ভাবস্থায় ঘি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য।এছারাও আর জানলাম ঘি খাওয়ার উপযুক্ত সময় সম্পর্কে এবং বাচ্চাদের ঘি খাওয়ানোর উপকারিতা সম্পর্কে।আশা করছি আজকের এই পোস্টটি পড়ে আপনারা উপকৃত হয়েছেন।যদি আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন।
তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করবেন।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন।আজকে এই পর্যন্তই।দেখা হবে পরের কোন পোস্টে।আজকের এই পোস্টে যদি আপনার কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন।
এধরনের আরো আর্টিকেল পড়তে এবং বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে আমার ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।আর এতক্ষণ ধরে আমার আর্টিকেলের সাথে থাকার জন্য সকলকে ধন্যবাদ।আসসালামু আলাইকুম।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url