অতিরিক্ত রাগ জেদ কমানোর নিঞ্জা টেকনিক সম্পর্কে জানুন বিস্তারিত
- ভূমিকা
- অতিরিক্ত রাগ জেদ কমানোর নিঞ্জা টেকনিক সম্পর্কে জানুন বিস্তারিত
- অতিরিক্ত রাগ জেদ কমানোর নিঞ্জা টেকনিক-দোয়া এবং আমল
- অতিরিক্ত রাগ জেদ কমানোর নিঞ্জা টেকনিক-আপনার সন্তানের রাগ কমাবেন কিভাবে
- যেসব খাবার আমাদের রাগ কমায়
- রাগ নিয়ন্ত্রণের ফজিলত
- কোন হরমোনের কারনে রাগ হয়
- স্বামীর রাগ ভাঙ্গাবেন কিভাবে
- পাঠকের শেষকথা
ভালোবাসা, দুঃখ বেদনা ইত্যাদি অনুভূতি প্রকাশ করার মতো রাগ জেদ একটি আবেগ। ছোট বড় বিভিন্ন ঘটনায় আমরা রাগ প্রকাশ করে থাকি। কিন্তু রাগ বেশি প্রকাশ পেলে আমাদের বিভিন্ন ধরনের বিপত্তিতে পড়তে হয়। প্রিয় পাঠক আজকে আমার আর্টিকেলের বিষয় অতিরিক্ত রাগ জেদ কমানোর নিঞ্জা টেকনিক সম্পর্কে।আমাদের মধ্যে প্রত্যেকটা মানুষেরই রাগ থাকে। রাগ খুবই স্বাভাবিক একটি অনুভূতি। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে এটা স্বল্প সময়ের জন্য থাকে আবার কারোর কারোর জন্য এটা অস্বাভাবিক হয়ে যায়।
ভূমিকা
আপনি কি অতিরিক্ত রাগ জেদ কমানোর নিঞ্জা টেকনিক সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। আজকে আমার আর্টিকেলের মধ্যে অতিরিক্ত রাগ এবং জেদ কমানোর কিছু টিপস আপনাদের সাথে শেয়ার করব।অতিরিক্ত রাগ জেদ কমানোর নিঞ্জা টেকনিক সম্পর্কে জানতে হলে আমার আর্টিকেলের শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে।
অতিরিক্ত রাগ জেদ কমানোর নিঞ্জা টেকনিক সম্পর্কে জানুন বিস্তারিত
আমাদের মধ্যেও অনেকে আছেন যারা অতিরিক্ত রেগে গেলে ভাঙচুর করেন কিংবা উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকেন। আবার অনেকে গায়ে হাত ও পর্যন্ত তুলে। অতিরিক্ত রাগের প্রভাব পড়তে পারে ওদের সামাজিক এবং ব্যক্তিগত জীবনে। এছাড়াও দেখা দিতে পারে খিটখিটে মেজাজের মতো সমস্যা এবং উচ্চ রক্তচাপ এর মত সমস্যা। তাই অবশ্যই আমাদের অতিরিক্ত রাগ জেদ কমানো উচিত। চলুন তাহলে দেরি না করে জেনে নেই অতিরিক্ত রাগ জেদ কমানোর নিঞ্জা টেকনিক সম্পর্কেঃ
দ্রুত স্থান ত্যাগ করুন
হঠাৎ যখন বেশি রাগ করে ফেলবেন তখন সে সময়ে ওই জায়গা ত্যাগ করার চেষ্টা করতে হবে। যে মানুষটির উপর আপনার রাগ তার থেকে কিছুক্ষণ দূরে থেকে রাগ কমানোর চেষ্টা করতে হবে। দূরে থাকলে এমনিতেই রাগ কমে যায়। রাগ কমানোর কারণে আপনি কখনোই নিজেকে পরাজিত ভাববেন না। সব সময় এরকম ভাববেন যে আপনি ওই স্থান ত্যাগ করে এবং রাগ কমানোর কারণে আপনি জিতে গেছেন। যদি ওই স্থান ত্যাগ করা সম্ভব না হয় তাহলে অবশ্যই আপনি দাঁড়িয়ে না থেকে বসে পড়ুন। কিংবা শুয়ে থাকার অপশন থাকলে আপনি অবশ্যই শুয়ে পড়ুন। এভাবে দেখবেন খুব সহজে আপনার অতিরিক্ত রাগ জেদ আপনার কন্ট্রোলে চলে এসেছে।
কথা বলার আগে সময় নিন
রেগে গেলে হুট করে আমরা অনেক কিছুই বলে ফেলি। কিন্তু এটা বলা একদমই ঠিক নয়। রাগের মুহূর্তে যেকোনো কিছু বললে সেটা অবশ্যই আমাদের জীবনে ভালো কিছু বয়ে আনেনা। রাগের মুহূর্তে আমরা এমন কিছু আরো যা ওই পরিস্থিতিকে সংকটময় করে তুলতে পারে। এজন্য রেগে গেলে আপনি কথা বলার আগে কিছু সময় নিয়ে চিন্তা করে নিন। ভেবে দেখো আপনার কোন মুহূর্তে কোন কথা বা কোন আচরণ করা উচিত। বা কেমন কথা বললে, কেমন আচরণ করলে কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে না। এই সব ভেবে চিন্তে কথা বলতে হবে। এজন্য কথা বলার আগে অবশ্যই সময় নিয়ে ভেবেচিন্তে কথা বলুন।
অন্য কারো সঙ্গে কথা বলুন
আপনার যদি অপ্রত্যাশিতভাবে কারোর ওপর রাগ থাকে তবে আপনার পছন্দের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কেমন অনুভব করছেন সেটা আপনার বাবা-মায়ের সঙ্গে বা কোন বন্ধুর সাথে কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করলে অনেক সময় আমাদের মনের ভার কমে যায় কিংবা রাগ কমে যায়। তবে এমন কাউকে বলা উচিত নয় যে আপনার মনের অনুভূতি বা মনের অবস্থা বুঝতে পারবে না। যদি কাউকে খুঁজে না পান এবং পরিস্থিতি যদি আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে তবে অবশ্যই আপনি আপনার পছন্দের কোন মানুষকে ফোন দিয়ে কথা বলতে পারেন। অর্থাৎ যখনই হঠাৎ করে আপনার রাগ লেগে যাবে কারোর ওপর তখন আপনি আপনার পছন্দের কোন মানুষকে ফোন দিতে পারেন এবং কিছুক্ষণ কথা বলতে পারেন। তারপর মাথা ঠান্ডা হয়ে গিয়ে তার সাথে সবকিছু শেয়ার করতে পারেন। এভাবে দেখবেন আপনার অতিরিক্ত রাগ আর থাকবে না এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
নিশ্বাসের ব্যায়াম
তাৎক্ষণিকভাবে যদি রাগ লেগে থাকে তাহলে সেই রাগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আপনি নিঃশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন। এটা অনেক পুরনো এবং কার্যকর একটি পদ্ধতি। রাগ এবং জেদ থেকে মনটাকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আপনি আপনার নিঃশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিতে পারেন। বুক ভরে গভীর নিশ্বাস নিন এবং সেটাকে কিছুক্ষণ ধরে চেপে রেখে আস্তে আস্তে ছেড়ে দিন। এভাবে দেখবেন আপনার রাগ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
উল্টা করে গণনা শুরু করুন
অতিরিক্ত রাগ জেদ কমাতে বহুকাল ধরে প্রচলিত এই প্রক্রিয়াটি সত্যি কার্যকর। মনে হচ্ছে কোন ঘটনায় আপনি বিরক্ত হচ্ছেন বা ভেতর থেকে আপনার রাগ হচ্ছে তাহলে আপনি উল্টো দিক থেকে গণনা করতে শুরু করুন। যেমন ১০০, ৯৯, ৯৮....... ইত্যাদি। এটি সাময়িকভাবে আপনার মনোযোগ কে সরিয়ে দেবে এবং কোন কিছু চিন্তা করার সুযোগ দিবে না। অর্থাৎ এর মধ্যে আপনি আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণ করে ফেলতে পারবেন। রাগ নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত আপনি উল্টা করে গুণতে থাকবেন। এই পদ্ধতি অবলম্বন করার মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন খুব সহজেই কিভাবে আপনি অতিরিক্ত রাগ জেদ মুহূর্তের মধ্যে কমিয়ে ফেলতে পেরেছেন।
লিখে রাখুন
হঠাৎ করে আমরা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে রেগে যেতে পারি। কিন্তু কোন পরিস্থিতিতে আপনি কেন রাগ করছেন বা কেমন প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন কিংবা আপনি রাগ করে কেমন অনুভূতি প্রকাশ করছেন এগুলো একটি খাতায় লিখে রাখতে পারেন। এমনকি কিভাবে আপনার নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে সেটাও আপনি লিখে রাখতে পারেন। এভাবে সুন্দর একটি নোট তৈরি করে ফেলুন। এবং এই নোট আপনি বারবার পড়তে পারেন। এই পদ্ধতিটি আপনাকে আপনার অনুভূতি প্রকাশ করার সুযোগ দিবে এবং আপনি নিজের রাগ নিজেই কন্ট্রোলে রাখতে পারবেন। তাহলে আজ থেকে কোন বিষয়ে রাগ লাগলে বা সেই রাগ আপনি কিভাবে কন্ট্রোল করছেন সেটা অবশ্যই খাতায় লিখে রাখবেন। দেখবেন এভাবেই আপনি অতিরিক্ত রাগ জেদ কমাতে সক্ষম হয়েছেন।
ক্ষমা করতে শিখুন
অতিরিক্ত রাগ জেদ কমানোর নিঞ্জা টেকনিকের মধ্যে আরও একটি বিষয় হলো ক্ষমা করতে শেখা। আপনার রাগ নিজের মধ্যে পুষে না রেখে সেটা ক্ষমা করে দিতে শিখুন। ক্ষমা হচ্ছে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। আপনি যদি রাগ বা অন্যান্য কোন অনুভূতি নিজের মধ্যেই লালন পালন করতে থাকেন তাহলে সেটা থেকে আপনার ভেতরে আরও তিক্ততা জমতে থাকে। কাজেই আপনি অবশ্যই কারোর ওপর রাগ থাকলে সেটা ক্ষমা করে দিবেন। করে আপনার রাগ কমে যাবে পাশাপাশি আপনার মন ভালো থাকবে।
ধূমপান পরিহার করা
আমাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা রাগ কমাতে সাথে সাথে সিগারেট খেতে শুরু করেন। এক্ষেত্রে রাগ না কমে আমাদের শরীরে আরো বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হতে পারে। রাগ কমানোর জন্য শুধু ধূমপান নয় আরো বিভিন্ন ধরনের নেশাও অনেকে করে থাকে। এটা বরাবরই খারাপ অভ্যাস। রাগ কন্ট্রোল করার জন্য বা জেদ কমানোর জন্য ধূমপান এবং নেশা করা কখনো সমাধান হতে পারে না বা রাগ কমানোর উপায় হতে পারে না। ধূমপান এবং নেশা করার জন্য রাগ আরো বেশি হতে পারে।এজন্য অতিরিক্ত রাগ জেদ কমাতে অবশ্যই ধূমপান পরিহার করতে হবে। আপনি অনেক রেগে থাকবেন বা টেনসনে থাকবেন তখন হাসি ঠাট্টা করতে পারেন। এতে করে তৎক্ষণাৎ আপনার রাগ কমে আসতে পারে এবং আপনার মনটা হালকা হতে পারে।
অতিরিক্ত রাগ জেদ কমানোর নিঞ্জা টেকনিক-দোয়া এবং আমল
রাগ নেই এমন মানুষ আমাদের মধ্যে খুঁজে পাওয়া বেশ মুশকিল একটা বিষয়। কম বেশি রাগ সবার মধ্যে লুকিয়ে থাকে। কারোটা হতে পারে একটু বেশি আবার কারোটা হতে পারে একটু কম। কেউ হয়তো রাগের বসে অনেক কিছুই করে ফেলে আবার কেউ হয়তো চুপচাপ সহ্য করে নেই। রাগ ও জেদ নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন একটি বিষয়।
কিন্তু আমরা যারা মুসলিম তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তার উম্মতের প্রতি জোরদার তাগিদ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তির শক্তিশালী নয় যে কুস্তিতে লড়াই করে জিতে যায়, বরং সেই ব্যক্তি প্রত্যপক্ষে শক্তিশালী যে নিজের রাগের সময় নিজেকে সংবরণ করতে পারে।
মানুষের রাগ লাগবে এটা খুবই স্বাভাবিক তবে রাগের বশে অন্য কারোর ক্ষতি করে ফেলা বা নিজের জীবন ধ্বংস করে ফেলা বিষয়টি খারাপ। রাগ করে কারোর ক্ষতি করার পরে যখন রাগ কমে যায় তখন আসলে বোঝা যায় যে কতটা ক্ষতি হয়ে গেছে। রেগে যাওয়া মানেই হল হেরে যাওয়া। রাগ করে কেউ বড় বা সুখী হতে পারেনি জীবনে।
তবে আপনার রাগের সময় যদি আপনি চুপ করে থাকতে পারেন তাহলে অবশ্যই বিষয়টি স্বাভাবিক থাকবে। চুপ থাকার মাধ্যমে রাগ কমে যাবে এবং ঝগড়া হবে না। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা শিক্ষা দাও এবং সহজ করো, কঠিন করো না যখন তুমি রাগান্বিত হও, চুপ থাকো যখন তুমি রাগান্বিত হও। রাগ মানুষের ক্ষতি করে।
রাগ অবশ্যই শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। এজন্য যখনই রাগান্বিত অবস্থায় থাকবেন তখনই আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতে হবে। রাগের সময় অবশ্যই আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম করতে হবে। এই দোয়া পড়ার ফলে আপনার কাছে থেকে শয়তান চলে যাবে এবং আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। আর শয়তান হলো আগুনে তৈরি।
এজন্য অবশ্যই আগুনকে পানি দ্বারা থামাতে হয়। সুতরাং তোমরা যখন কেউ রাগান্বিত হও তখন সাথে সাথে অজু করে নাও। এছাড়াও যাদের মধ্যে অতিরিক্ত রাগ আছে তারা অবশ্যই রাগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের জিকির, ইস্তেগফার এবং দুরুদ পাঠ করতে পারেন। এছাড়াও নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত সহ নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে নিয়ন্ত্রণের জন্য পানাহ চেতে পারেন।
নামাজ পড়া শেষে রাগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এই দোয়াটি পড়তে পারেন। দোয়াটি হলো-" আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আদলা ফিল গাদাবি ওয়ার রিদা।" এর অর্থ হল-হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ক্রোধ ও সন্তুষ্টি উভয় মাধ্যমপন্থা কামনা করি।
অতিরিক্ত রাগ জেদ কমানোর নিঞ্জা টেকনিক-আপনার সন্তানের রাগ কমাবেন কিভাবে
অতিরিক্ত রাগ যে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার শিক্ষা আপনার সন্তানকে ছোট থেকে দেওয়াই জরুরী একজন বাবা-মা হিসেবে। কারণ আমাদের বাচ্চাদের মধ্যে অনেক বাচ্চারা আছে যারা কথায় কথায় অনেক বেশি রেগে যায় এবং রেগে গেলে জিনিসপত্র ছড়াছড়ি, ভাঙচুর,মারামারি ইত্যাদি করে থাকে। ছোট থেকে এই ধরনের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বড় হয়ে আপনার সন্তান করতে পারে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায়।
বড়দের মতো বাচ্চারাও রাগারাগি করে এবং বাচ্চাদেরও রাগ কন্ট্রোল করার জন্য অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু আপনার সন্তান যদি আপনার কথায় আরও বেশি রেগে যায় তাহলে রাগ কমানোর একান্ত জরুরি। মনে রাখবেন রাগ হচ্ছে একজন মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। বিভিন্ন কারণে বাচ্চারা করতে পারে বা জেদ করতে পারে।
সন্তান রাগারাগি করলে উল্টো তার সাথে রাগ বা জেদ না দেখিয়ে ঠান্ডা মাথায় তার রাগ বোঝার চেষ্টা করুন। কারণ বাচ্চাদের রাগের পেছনে অবশ্যই কোন কারণ থাকবে। তার কারণ অভ্যাস কার্যকলাপ এগুলো ভালোভাবে খুঁজে বের করে তাকে নিয়ন্ত্রণ করুন। অবশ্যই আপনার বাচ্চার সঙ্গে ঠান্ডা মেজাজে কথা বলুন। তার সমস্ত কথা শুনুন। সব পরিস্থিতি অনুযায়ী বাচ্চাকে সান্তনা দিন।
কোন পরিস্থিতি বারবার আপনার সন্তানের রাগের কারণ হয়ে থাকলে তা দূর করার চেষ্টা করুন। পড়াশুনার ক্ষেত্রে ধৈর্য সহকারে পড়ানোর অভ্যাস করুন। কোন কারনে আপনার বাচ্চা অবসাদগ্রস্ত হয়ে গেলে তা দূর করার চেষ্টা করুন। সন্তানের সামনে বাড়িতে কখনোই রাগারাগি বা ঝগড়াঝাটি কিংবা আক্রমণাত্মক ব্যবহার করবেন না। সন্তানের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করবেন।
সন্তান রেগে গিয়ে ভুলভাল শব্দ ব্যবহার করলে তাকে বকাঝকা না করে শান্ত হওয়ার পর তাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলুন। সব সময় এটা বোঝানোর চেষ্টা করুন যে, সে যে ব্যবহার অন্যদের সাথে করবে রাগান্বিতভাবে, সেই ব্যবহারটা যদি তার সাথে অন্য কেউ করে তাহলে তার কেমন লাগবে! অর্থাৎ নিজের মাধ্যম দিয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন।
আপনার সন্তান রেগে গেলে অবশ্যই তাকে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে শিখাবেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চুপ করে থাকা শেখাবেন। সেরকম কোন পরিস্থিতি যদি থাকে তাহলে অবশ্যই বসে থাকতে শেখাবেন। আপনার বাচ্চাকে উল্টো করে গননা শিখাবেন এবং অতিরিক্ত রেগে গেলে ওযু করার অভ্যাস করা শেখাবেন। বিভিন্ন ধরনের জিকির-আজকার শেখাবেন।
অবশ্যই আপনার সন্তান যখন কোন ভাল কাজ করবে তখন তার প্রশংসা করতে ভুলবেন না। সমীক্ষা অনুযায়ী যখন বাচ্চার বাবা-মা তার ভালো ব্যবহারের জন্য প্রশংসা করে তখন তাদের মনে কোন নেতিবাচক চিন্তাভাবনা জন্ম নেয় না। এজন্য তার কাজের সবসময় প্রশংসা করুন।
যেসব খাবার আমাদের রাগ কমায়
কোন খাবার গুলো আমাদের রাগ কমায়?মানুষের প্রধান শত্রু হচ্ছে তার রাগ। কথায় আছে রাগ আমাদের জ্ঞানকে খেয়ে ফেলে। যাদের বসে অনেকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতেও দুইবার ভাবে না। চেষ্টা করেও রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এরকম অনেকেই আছে আমাদের মধ্যে।প্রিয় পাঠক এতক্ষণ ধরে আমরা জানলাম রাগ জেদ কমানোর নিঞ্জা টেকনিক সম্পর্কে।
গবেষণায় জানা গেছে, এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো খেলে আমাদের মন শান্ত থাকে। এই খাবারগুলো আমাদের মনের সাথে সম্পর্কিত এবং যা আমাদের হরমোন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আমাদের ব্রেনের নার্ভকে হঠাৎ উত্তেজিত করতে বাধা প্রদান করা।প্রিয় পাঠক চলুন তাহলে জেনে নেই কোন কোন খাবার আমাদের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেঃ
- আমরা সকলেই জানি কলা আমাদের শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। কলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি এবং পটাশিয়াম যা আমাদের ব্রেনের নার্ভকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত কলা খাওয়ার ফলে আমাদের ব্রেন অনেকটা শান্ত হয়ে যাবে।
- ডিম খুবই পুষ্টিকর একটি খাবার। ডিমের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি, এবং ডি। প্রত্যেকের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই একটি কিংবা দুইটি ডিম রাখার চেষ্টা করবেন কেননা এটি ডিম খাওয়ার ফলে আমাদের রাগ নিয়ন্ত্রণ হয়।
- কার্বোহাইড্রেট এবং ভিটামিন বি সমৃদ্ধ একটি জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে আলু। এটি এমন একটি সবজি যা আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকে। আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী। উত্তর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে আলু। এছাড়াও পাশাপাশি এটি আমাদের ব্রেনকে শান্ত রাখতে পারে।
- অ্যাভোকাডো এমন একটি ফল যা আমাদের অনেকের খেতে খুব পছন্দ আবার অনেকের একদমই অপছন্দ। এই ফলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর গুনাগুন। এই ফলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি যা আমাদের মস্তিষ্কের দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারে। এছাড়াও রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন ই, লুটিন ইত্যাদি যা আমাদের ব্রেনকে শান্ত রাখতে পারে।
- রাগ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে আপেলের কোন জুড়ি নেই। এটি খুবই পুষ্টিকর একটি ফল। হঠাৎ করে খুব রেগে যাচ্ছেন এরকম যদি হয় আপনার সাথে তাহলে রাগ কমাতে আপেল খেতে পারেন।
- আইসক্রিম খেতে পছন্দ করে না এরকম মানুষ খুবই কম বা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিন্তু অনেক সময় ঠান্ডা লাগার ভয়ে আইসক্রিম থেকে দূরে থাকতে হয় আমাদের। কিন্তু আপনি কি জানেন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, থ্রোমটনিন হরমোন নিঃসরণ করতে সাহায্য করে আমাদের সকলের পছন্দের আইসক্রিম। এটি হচ্ছে সেই হরমোন যার কারণে আমাদের মন ভালো থাকে।
- আইসক্রিমের মত আর একটা লোভনীয় খাবার হচ্ছে চকলেট। চকলেট পেলে সবারই মন ভালো হয়ে যায়। এটি আমাদের রাগ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও চকলেট খাওয়ার পরে আপনার মস্তিষ্ক কিছু হরমোন নিঃসরণ বাড়িয়ে দেই যার কারণে আমাদের রাগ নিমিষেই দূর হয়ে যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত চকলেট খাওয়া যাবেনা।
- এছাড়াও আমাদের শরীরের জন্য আরও একটি উপকারি খাবার ঘটছে গ্রিন টি। নিয়মিত আমরা চা পান করি। কিন্তু চা এর পরিবর্তে যদি আমরা গ্রিন টি খেতে পারি তাহলে সেটা আমাদের শরীরের জন্য আরো বেশি উপকার বয়ে আনবে। নিয়মিত এই চা পান করার ফলে আমাদের মন মেজাজ ভালো থাকে এবং অসুখ-বিসুখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও এটা পান করলে আমরা রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি।
রাগ নিয়ন্ত্রণের ফজিলত
রাগ নিয়ন্ত্রণের ফজিলত সম্পর্কে অনেকেই গুগলে সার্চ করে থাকেন। অনেকেই জানতে চান রাগ নিয়ন্ত্রণ করার ফলে ফজিলত পাওয়া যায় সে সম্পর্কে। প্রিয় পাঠক এরকম প্রশ্ন যদি আপনাদের মনে এসে থাকেন তাহলে আপনাদের জন্য আমার আজকের এই আর্টিকেল। এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন রাগ নিয়ন্ত্রণের ফজিলত কি কিঃ
রাগ দমনে ঈমান এবং শান্তি ভরপুর থাকে
রাগ দমনকারী ব্যাক্তির হৃদয়কে মহান আল্লাহতালা ঈমান এবং শান্তি দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেয়। পাশাপাশি সেইসব ব্যক্তিকে জান্নাতি মেহমান হিসেবে অভ্যর্থনা জানানো হয়। অনেক হাদিস এসেছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন," আমার নিকট হজম করার জিনিসের মধ্যে সর্বোত্তম হলো কোন ব্যক্তির যদি তার রাগ হজম করে নেয়।" আল্লাহ তাআলা তাকে পরিপূর্ণ ঈমান দিয়ে ভরপুর করে দিবেন।
রাগ নিয়ন্ত্রণকারী প্রকৃত বীর
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন," প্রকৃত বীর সে নয় যে কাউকে কুস্তিতে কিংবা কথাতে হারিয়ে দেয়। প্রকৃত বীর হচ্ছে হে মানুষ যে সব সময় তার নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।"
আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা
আল্লাহ তাআলা বিশেষ করে রাগ দমনকারী এবং যারা মানুষকে ক্ষমা করে এই ধরনের ব্যক্তিকে বেশি ভালোবাসেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন," যারা সচ্ছলতা এবং অসচ্ছলতা অবস্থায় আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে, যারা নিজের রাগ দমন করতে পারে এবং মানুষকে ক্ষমা করতে পারে আল্লাহ তালা সেসব ব্যক্তিদের ভালোবাসেন।"
রাগ থেকে মুক্তি
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রত্যেকটি নেক আমলের পুরস্কার দিবেন। রাগ দমনের ব্যাপারে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলেছেন," আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বান্দার রাগ সংবরনে যে মহান প্রতিদান রয়েছে তা অন্য কিছু সংবরণে নেই।"
এছাড়াও অন্য একটি হাদিসে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! কোন জিনিস আমাকে আল্লাহ ক্রোধ থেকে রক্ষা করতে পারে? তারপর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন," তুমি রাগ করোনা" অর্থাৎ রাগ করা থেকে বিরত থাকতে পারলে মহান আল্লাহ তাআলার ক্রোধ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
মানুষের সামনে সম্মানের স্বীকৃতি
রাগান্বিত ব্যক্তি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দুনিয়ায় যদি রাগ প্রয়োগ না করেন বরং তাদেরকে ক্ষমা করে দেন তবে মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে কিয়ামতের মাঠে সৃষ্টি কুলের সামনে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করবেন বলে হাদীসে এসেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন," যে ব্যক্তি তার রাগ প্রয়োগে ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সঙ্গে তো থাকে কি আমাদের দিন মহান আল্লাহ তায়ালা সকল সৃষ্টিকুলের সামনে থাকে ডেকে নিবেন এবং তাকে হুরদের মধ্যে থেকে একজনকে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিবেন।"
বিশাল প্রতিদান পাবেন
মহান আল্লাহ তায়ালা সকলকে রাগ দমন করার আদেশ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন," কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় রাগ দমন করে নিতে পারে তাহলে আল্লাহ তাআলার নিকট চেয়ে বিশাল প্রতিদান পাবে।"
জান্নাতের সুসংবাদ
রাগান্বিত ব্যক্তি সবসময় শয়তানের অনুগামী হয়। আর আরো একটি হাদিসে এসেছে একদা এক ব্যক্তি হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু একবার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এমন কোন আমলের কথা বলেন যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন," তুমি তোমার রাগ প্রকাশ করবে না। তাহলে তোমার জন্য রয়েছে জান্নাত।"
সুচরিত্রের অধিকারী হওয়া
রাগী মানুষকে কেউ পছন্দ করেনা। যারা সৎ চরিত্রের অধিকারী এবং মিষ্টিভাষী তাদেরকে সকলেই পছন্দ করে। হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, একদা এক লোক নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আবেদন জানানোর যে, আল্লাহর রাসূল আপনি আমাকে ওসিয়ত করুন। তিনি বললেন, তুমি তোমার রাগ দমন কর। ও লোকটি তারপর আবারও আবেদন জানালো। পরেরবার তিনি একই কথা বললেন। এভাবে বেশ কয়েকবার তিনি একই কথা বলেছেন।
অর্থাৎ এ থেকে আমরা বুঝতে পারলাম অবশ্যই আমাদের রাগ দমন করলে পরবর্তীতে আল্লাহতালার কাছে আমরা বিশেষভাবে পুরস্কৃত হতে পারব।
কোন হরমোনের কারনে রাগ হয়
কোন হরমোনের কারণে রাগ হয় এ নিয়ে আমাদের মনে অনেক প্রশ্ন। রাগ একটি স্বাভাবিক মানসিক অবস্থা যা আমাদের সবার সাথে হয়ে থাকে। এতক্ষণ ধরে আমরা জানলাম রাগ কমানোর বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে। তবে রাগের পিছনে কিছু হরমোন কাজ করে থাকে। যেগুলোর কারণে আমরা হুটহাট রেগে যাই এবং আমাদের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হয়।
রাগের সময় আমাদের এড্রেনালিন হরমোন কাজ করে থাকে এবং এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে আমাদের হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পায় এবং উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যায়। যে কোন মানুষের শরীরে রাগ থাকে এটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু কারো কারো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাগ দেখা যায়। অতিরিক্ত রাগের পেছনের লুকিয়ে থাকে কোনো না কোনো সমস্যা। অনেকের ক্ষেত্রে মানসিক রোগ দেখা যায়।
তবে রাগের জেনেটিক কারণ থাকতে পারে, কিংবা পরিবেশগত কোনো কারণ থাকতে পারে। এছাড়াও অতিরিক্ত রাগের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করা। এছাড়াও যাদের দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার রয়েছে এবং বিভিন্ন ওষুধ সেবন করতে হয় তাদের মধ্যেও অতিরিক্ত রাগ দেখা যায়। অতিরিক্ত রাগ তাদের মধ্যেই দেখা যায় যাদের স্নেহ ভালোবাসা এবং মায়া মমতার অভাব।
স্বামীর রাগ ভাঙ্গাবেন কিভাবে
একটি সংসারে শান্তি বজায় রাখার জন্য স্বামী এবং স্ত্রী দুজনেরই সমান চেষ্টা থাকা উচিত। একসাথে থাকতে গেলে ঝগড়া ঝামেলা হবে এটা স্বাভাবিক। তাই বলে সংসারে অশান্তি করা যাবে না। আমাদের মধ্যে অনেকের স্বামী রাগী স্বভাবের হয়ে থাকে। স্বামী বেশি রাগী হয় তাহলে সেই রাগ সামলানোর দায়িত্ব অবশ্যই তার স্ত্রীকে নিতে হবে।
কেননা একমাত্র স্ত্রী পারে তার স্বামীর রাগ ভাঙাতে। দাম্পত্য জীবনে কোলাহল তখন থেকেই শুরু হয় যখন দুই পক্ষের রাগারাগি শুরু হয়। অনেক স্বামী আছে যারা নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না এবং তার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে মারধর করেন। এরকম অবস্থায় সংসার সুখের করার দায়িত্ব অবশ্যই তার স্ত্রীকে নিতে হবে।
স্বামী রেগে যাচ্ছি এরকম পরিস্থিতির দেখলেই ঝগড়া শুরু হওয়ার আগেই আপনাকে থেমে যেতে হবে। চুপ করে থাকতে হবে এবং ওই পরিস্থিতি থেকে নিজেকে সরে আনতে হবে। স্বামী কোন কথা বললেও আপনাকে এড়িয়ে যেতে হবে। স্বামীর কথার সাথে রাগারাগি করা যাবে না। স্বামীর কথার সাথে যদি আপনি তর্ক লাগিয়ে দেন তাহলে ঝগড়া কিংবা তর্ক আরো বাড়তেই থাকবে।
বরং তার মাথা ঠান্ডা হলে তাকে ভালোভাবে শান্ত গলায় যুক্তিযুক্ত কথা দিয়ে বুঝিয়ে বলুন। আপনার নিজের ব্যবহারের দিকে খেয়াল রাখবেন। আপনার অপছন্দের কোন ব্যবহার স্বামীর সামনে করবেন না। স্বামী রাগের বশে আপনাকে কোন দোষ দিয়ে থাকলে আপনি মাথা পেতে নিবেন। আপনি কতটা দোষী সেটা নিজে বিচার করে দেখুন এবং পরবর্তীতে সেটা তাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলুন।
কোথায় আছে সব শেষ সুখের হয় রমনীর গুনে। অবশ্যই আপনার কিছু গুণ থাকা উচিত যার মাধ্যমে আপনি আপনার স্বামীর রাগ কন্ট্রোল করে স্বামীর মন রক্ষা করে আদর্শ রগণের মত হয়ে থাকতে পারবেন।
পাঠকের শেষকথা
প্রিয় পাঠক এতক্ষণ ধরে আমরা জানলাম অতিরিক্ত রাগ জেদ কমানোর নিঞ্জা টেকনিক সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য। এছাড়াও আরো জানলাম অতিরিক্ত রাগ জেদ কমানোর নিঞ্জা টেকনিক-দোয়া এবং আমল উপায় ও বাচ্চাদের রাগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় কিভাবে সে সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য।আশা করছি আজকের এই পোস্টটি পড়ে আপনারা উপকৃত হয়েছেন।
যদি আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন।তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করবেন।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন।আজকে এই পর্যন্তই।দেখা হবে পরের কোন পোস্টে।আজকের এই পোস্টে যদি আপনার কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন।
এধরনের আরো আর্টিকেল পড়তে এবং বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে আমার ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।আর এতক্ষণ ধরে আমার আর্টিকেলের সাথে থাকার জন্য সকলকে ধন্যবাদ।আসসালামু আলাইকুম।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url