ওজন কমাতে আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম
আপনি কি ওজন কমাতে আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন?আপনার শরীরের ওজন কি অতিরিক্ত বেশি? আপনি কি আপনার শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে চাচ্ছেন! অনেক ব্যায়াম এবং খাবারের তালিকা পরিবর্তন করার পরেও কি আপনার ওজন কমছে না? তাহলে আজকে আর্টিকেলটি আপনার জন্য।আপনাদের সুবিধার কথা ভেবে আজকে আমার আর্টিকেলের বিষয় নির্ধারণ করেছি ওজন কমাতে আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে। আশা করি আজকের পোস্ট পড়ে আপনি অনেক বেশি উপকৃত হতে পারবেন।
ভূমিকা
ওজন কমাতে আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে হলে আমার আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।আপেল সিডার ভিনেগার এর সাথে আমরা সবাই বেশ পরিচিত। এটি রান্নার কাজে সাধারণত ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
কিন্তু শুধুমাত্র রান্নার কাজে নয় বরং আমাদের শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর একটি উপাদান। আপনি যদি সঠিক উপায়ে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার পান করতে পারেন তাহলে আপনি আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারবেন খুব সহজেই।
ওজন কমাতে আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম
আবার অনেকেই হয়তো জানেন আগে থেকেই যে আপেল সিডার ভিনেগার আমাদের শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সক্ষম। কিন্তু হয়তো জানেন না যে ওজন কমাতে এই উপাদানটি আমাদের কিভাবে প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়া উচিত! আজকের আর্টিকেলে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব ওজন কমাতে আপেল সিডার ভিনেগার আপনি কিভাবে খাবেন এবং কোন নিয়মে খাবেন।
কিভাবে খেলে আপনার শরীরের বিভিন্ন মাত্র কোনো ক্ষতি হবে না। আপেল সিডার ভিনেগার শুধুমাত্র আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ নয় বরং আপনার সুন্দর করে তুলতে এটি বেশ কার্যকর একটি উপাদান। গবেষণা করার মাধ্যমে জানা গেছে, নিয়ম মেনে আপেল সিডার ভিনেগার খেলে শরীরের বিপাক ক্রিয়া বেড়ে যায় যার কারণে ওজন কমতে পারে।
আর আপেল সিডার ভিনেগার শুধুমাত্র ওজন কমাতে নয় বরং আমাদের রক্তের শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখে সেই সাথে আমাদের হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে। এবং বিভিন্ন সংক্রমণ এর হাতে সাহায্য করে। সাধারণত ফার্মেন্টেড আপেলের জুস থেকে তৈরি হয় আপেল সিডার ভিনেগার।
প্রাকৃতিক আপেলের মধ্যে থাকা সুগার ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়া অ্যালকোহলে পরিণত হয় এবং এই অ্যালকোহল থেকে অ্যাসিটিক এসিড তৈরি হয় যা ভিনেগারের গন্ধযুক্ত এবং ঝাঁঝালো স্বাদ যুক্ত হওয়ার কারণ। এরমধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন, এনজাইম এবং উপকারী কিছু ব্যাকটেরিয়া।
- ওজন কমাতে সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস গরম পানির মধ্যে আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে খান। আপনি এক মাসের মধ্যে এর উপকারিতা বুঝতে পারবেন।
- অনেকেই অ্যাপেল সিডার ভিনেগারের মধ্যে লেবুর রস মিশিয়ে পান করে থাকে। কিন্তু আপেল সিডার ভিনেগারের মধ্যে থাকে অ্যাসিটিক এসিড এবং লেবুর রসের মধ্যে থাকে সাইট্রিক এসিড। আর এই দুই ধরনের এসিড একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়। এজন্য এই দুই উপাদান কখনো একসঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যাবেনা।
- যারা ডায়াবেটিসের রোগী কিংবা ওষুধ খাচ্ছেন অথবা সুগার নিয়ন্ত্রণে আনতে চান তারা খাবার আগে বা পরে অন্তত 30 মিনিট পর অ্যাপেল সিডার ভিনেগার খেতে পারেন।
- আবার সকালে উঠে খালি পেটে আপনি চিয়া সিডের সঙ্গে অথবা ইসবগুলের ভুষির সঙ্গে আপেল সিডার ভিনেগার খেলে উপকার পাবেন।
- একজন ব্যক্তি সারা দিনে সর্বোচ্চ দুই টেবিল চামচ ভিনেগার খেতে পারবে।
- তবে প্রথমে একদিনে এক চামচ করে খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। তারপরে সারাদিনে দুই টেবিল চামচ খাওয়ার অভ্যাস করলে যথেষ্ট। আর যাদের খেতে কষ্ট হয় তারা সারা দিনে এক চামচ করে খেলেও হবে।
- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল আপেল সিডার ভিনেগার পর্যাপ্ত পরিমাণ পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে।অন্তত ২০০ মিলিলিটার পানিতে এক টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে খেতে হবে।
- এর সাথে তোকমা মিশিয়ে নিতে পারলে আরো উপকারিতা পাওয়া যাবে।
আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার সময়
আপেল সিডার ভিনেগার স্বাস্থ্যকর সকল পানিওগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রাকৃতিকভাবে ফার্মেন্টেড এই পানীয়র মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর উপাদান। কিন্তু বিষয় হচ্ছে যে অ্যাপেল সিডের ভিনেগার খাওয়ার সেরা সময় কোনটি? আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার বিভিন্ন রকম উপকারিতা এবং নিয়ম সম্পর্কে হয়তো আপনি জেনেছেন বা জানেন।
কিন্তু আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার সেরা সময় কখন সেটা কি আপনি জানেন?বেশিরভাগ মানুষ আপেল সিডার ভিনেগার সকালে খালি পেটে পান করে থাকে। কেউ কেউ এটি খাবারের পর কিংবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে খেতে পছন্দ করে থাকে। কিন্তু আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার সর্বোত্তম সময় হতে সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে।
এটি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে খেলে আমাদের ওজন কমানোর জন্য খুব একটা উপকার হয় না। এছাড়াও আপেল সিডার ভিনেগার খেলে আমাদের শরীরে রক্তের শর্করা মাত্র কমে যেতে পারে এবং হজমে ব্যাঘাত করতে পারে। এজন্য সকালে খালি পেটে খাওয়া সর্বোত্তম সময়। খালি পেটে পান করলে এর কার্যকারিতা অনেক বেড়ে যায়।
তবে এটি খাওয়ার পরে অন্তত দশ বিশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তারপর অন্য কিছু খেতে হবে। তবে মনে রাখবেন কোন কিছুর সাথে মিক্স না করে শুধু আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়া কিন্তু ক্ষতিকর। অবশ্যই এটি পানির সাথে মিশিয়ে খেতে হবে।
আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার উপকারিতা
আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার ফলে যে শুধুমাত্র আমাদের শরীরের ওজন কমে যায় বিষয়টা এরকম না। এটি আমাদের শরীরের আরও বিভিন্ন ধরনের উপকার করে থাকে।
সুগার নিয়ন্ত্রণ
আপেল সিডার ভিনেগার খেলে শরীরের সেনসিটিভিটি বাড়ানোর মাধ্যমে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ইনসুলিনের কারণে গ্লুকোজ দেহের প্রবেশ করে এবং কোষের প্রবেশ করে বিভিন্ন বিপাকিও কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এজন্য আপেল সিডার ভিনেগার খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণ হওয়ার পাশাপাশি সুগার নিয়ন্ত্রণ হয়।
হৃদযন্ত্র ভালো থাকে
আপেল সিডার ভিনেগার আমাদের রক্তের কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। যাদের হাই প্রেসার রয়েছে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক বেশি তাদের হৃদরোগের ঝুকি অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই এগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃদযন্ত্র ভালো থাকবে। আর হৃদযন্ত্র ভালো রাখার জন্য নিয়মিত আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়া জরুরি।
হজমে সহায়তা করে
যাদের হজমে সমস্যা রয়েছে তারা খাবার খাওয়ার আগে কিংবা পরে কুসুম গরম পানিতে আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে আপনি বেশ উপকার অনুভব করবেন। আমাদের পেটে খাবার হজম করার জন্য যে এনজাইম বা অ্যাসিড প্রয়োজন হয় আপেল সিডার ভিনেগার সে সব এনজাইম এবং এসিডের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে খাবার দ্রুত ও ভালোভাবে হজম হতে পারে।
সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে
প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়ার কারণে এটি এন্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এন্টি ইনফ্লামেটরের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যার কারণে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে আপেল সিডার ভিনেগার। এজন্য আপনার শরীরের বিভিন্ন সংক্রমণ কমাতে আপনি খেতে পারেন বা খাবার তালিকায় রাখতে পারেন আপেল সিডার ভিনেগার।
কারা আপেল সিডার ভিনেগার খাবেন না
- গলা দিয়ে টক পানি আসা, গলা জ্বালাপোড়া করার সমস্যা যাদের রয়েছে তারা আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
- আমাদের মধ্যে যেসব মানুষের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা অনেক কম থাকে কিংবা মাঝেমধ্যে হঠাৎ করে কমে যায় তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আপেল সিডার ভিনেগার খাবেন না।
- যারা ডায়াবেটিসের খুব সাংঘাতিক রোগী অর্থাৎ দুই বেলা যাদের নিতে হয় এই ধরনের রোগীরা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া আপেল সিডার ভিনেগার সেবন করবেন না।
- যাদের কিডনিতে কিংবা পেতে পাথর রয়েছে তারা আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- এছাড়াও যাদের শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে এলার্জি রয়েছে তারা এটি এড়িয়ে চলবেন।
- এছাড়াও যাদের দাঁতের খুব জটিল সমস্যা অর্থাৎ এনামেল হয়ে যাওয়া কিংবা দাঁতের ভেতরে গর্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে তারাও এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
- যাদের অস্টিওপরেসিস আছে তাদের এটি খেতে নিষেধ করা হয়ে থাকে। কেননা আপেল সিডার ভিনেগার বোন মিনারেল ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন কে শোষণে বাধা দেয়।ফলে হারের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃপিরিয়ডের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়
রূপচর্চায় আপেল সিডার ভিনেগার
আমাদের সকলের কাছে আপেল সিডার ভিনেগার একটি পরিচিত নাম। খাবার থেকে শুরু করে রূপচর্চা এবং চুলের চর্চা ও ওজন কমাতে এটি খুবই জনপ্রিয়। এমনকি এটা দিয়ে আপনি তুলতে পারেন বাসনপত্র ও বাথরুমের জেদি দাগ। রূপচর্চার কাজে এটি বেশ উপকারিতা রয়েছে। চুলে শ্যাম্পু দেওয়ার পর আমরা আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করতে পারি।
তাহলে আমাদের চুলের খুশকি দূর হয়ে যাবে এবং ন্যাচারাল কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি নতুন চুল গজাবে। প্রথমে একটি স্প্রে বোতলে অথবা কোন বোতলে তিন থেকে চার চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার নিয়ে এক কাপ পানির মধ্যে মিশিয়ে রেখে দিতে হবে। এরপর শ্যাম্পু করা হয়ে গেলে ওই চুলে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।
অন্যদিকে এটি আমরা টোনার হিসেবেও কাজে লাগাতে পারি। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুখ পরিষ্কার করে টোনার এর মতো তুলা দিয়ে এই ভিনেগার ব্যবহার করা যেতে পারে। তাহলে আমাদের মুখের ব্রণ এবং দাগ চলে যাবে। দাঁতের হলদে ভাব দূর করার ক্ষেত্রে আপেল সিডার ভিনেগার বেশ উপকারী।
এক কাপ আপেল সিডার ভিনেগার গোসল এরকম পক্ষে ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে আপনার শরীরে মেখে রাখবেন। এতে করে রোদে পোড়া ভাব দূর হয়ে যাবে। আপেল সিডার ভিনেগার হাত-পায়ে সুন্দরভাবে মেসেজ করলে হাত পায়ে ব্যথা এবং ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
আপেল সিডার ভিনেগার প্রতিদিন ত্বকে ব্যবহার করতে পারলে ত্বকের পিএইচ লেভেল সঠিক থাকে, লোমকূপ ছোট হয় এবং মুখে ব্যাকটেরিয়া প্রকোপ কমে যায়। এমনকি ত্বকের বলিরেখা থেকে শুরু করে মরা চামড়াগুলো দূর করতে সক্ষম। পেডিকিউর মেডিকিউর করতে পানির মধ্যে ভিনেগার যোগ করুন। এতে করে আপনার হাত-পা উজ্জ্বল হবে এবং পায়ের দুর্গন্ধ দূর হবে।
আপেল সিডার ভিনেগার কতদিন খাওয়া যাবে?
রান্নার কাজে আমরা প্রায় সময়ই ভিনেগার ব্যবহার করে থাকি। ভিনেগার যেন আমাদের রান্নাঘরের একটি কমন উপাদান। আপেল সিডার ভিনেগার তৈরি করে আপেল কুচি কুচি করে গাজন প্রক্রিয়ায় পানিতে ডুবিয়ে রাখলে সেটা কতদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে এটা নিয়ে আমাদের মনে অনেকের প্রশ্ন।আসলে আপেল সিডার ভিনেগার কতদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে?
আপেল সিডার ভিনেগার সংরক্ষণে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে এটা টাইট কোন কন্টেইনারে রেখে দেওয়া। অবশ্যই ঠান্ডা এবং অন্ধকার জায়গায় রাখতে হবে যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছাবে না। ভিনেগার ফ্রিজে রাখা অনর্থক।এটা আপনি বাইরে রাখতে পারেন। একটি ভিনেগারের বোতলের বয়স যত বেশি হতে থাকে ঠিক তখন আপনি খেয়াল করে দেখবেন ভিনেগারের পানি আস্তে আস্তে অস্পষ্ট হয়ে গেছে।
এবং বোতলের তলায় কিছু তলানি জমে গেছে। এটার প্রধান কারণ হচ্ছে অক্সিজেন। কারণ আপনি যতবার ভিনেগার ব্যবহার করার জন্য ভিনেগারের মুখ খুলতে থাকেন ঠিক ততবার এর মধ্যে অক্সিজেন প্রবেশ করতে থাকে। এজন্য বারবার ভিনেগারের মুখ খোলা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব আপেল সিডার ভিনেগার শেষ করে ফেলতে হবে।
কখনো একটি বোতল দীর্ঘদিন ব্যবহার করা উচিত নয়।অন্যদিকে আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করে যে ভিনেগার বেশি পান করলে হয়তো আমাদের শরীরের ওজন দ্রুত কমে যাবে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। দিনের মধ্যে একবার আপেল সিটের ভিনেগার পান করা যাবে। একবারে বেশি কখনোই পান করা যাবে না। তবে একটানা দুই মাস খেলে মাঝখানে ১৫ দিন বন্ধ রাখতে পারেন। প্রিয় পাঠক আশা করি বুঝতে পেরেছেন আপেলসিডার ভিনেগার কতদিন খাওয়া যাবে।
আপেল সিডার ভিনেগার কোনটা ভালো
সাধারণত আপেল সিডার ভিনেগার তৈরি করা হয় আপেল, চিনি এবং ইস্ট দিয়ে। এরমধ্যে রয়েছে প্রায় পাঁচ শতাংশ অ্যাসিটিক অ্যাসিড। থেকে সাধারণত দুর্বল এসিড হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও এর ঘনত্ব বাড়লে তা শক্তিশালী এসিড হিসেবে কাজ করতে সক্ষম। আপেল সিডার ভিনেগার দুই রকমের হয়ে থাকে।
১.পরিশোধিত, ফিল্টার করা( যেকোনো মুদি দোকানে কিংবা সুপার শপে খাবারের উপকরণ হিসেবে এটাকে পাওয়া যায়)।
২.অপরিশোধিত, একটু ঘন( যা খাওয়া বাদে অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যায়)।
পাঠকের শেষকথা
প্রিয় পাঠক এতক্ষণ ধরে আমরা জানলাম ওজন কমাতে আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য। এছাড়াও আরো জানলাম রূপচর্চায় অ্যাপেল সিডার ভিনেগার কতটুকু কাজে লাগে এবং আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার উপকারিতা এবং কারা খাবেনা সে সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য।আশা করছি আজকের এই পোস্টটি পড়ে আপনারা উপকৃত হয়েছেন।
যদি আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন।তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করবেন।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন।আজকে এই পর্যন্তই।দেখা হবে পরের কোন পোস্টে।আজকের এই পোস্টে যদি আপনার কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন।
এধরনের আরো আর্টিকেল পড়তে এবং বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে আমার ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।আর এতক্ষণ ধরে আমার আর্টিকেলের সাথে থাকার জন্য সকলকে ধন্যবাদ।আসসালামু আলাইকুম।
FAQ:ওজন কমাতে আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে পাঠকের কিছু প্রশ্ন।
১.আপেল সিডার ভিনেগার কিভাবে ওজন কমায়?
আপেল সিডার প্রাথমিক উপাদান হচ্ছে অ্যাসিটিক অ্যাসিড যা আমাদের ওজন কমানোর বৈশিষ্ট্যের বিশেষ ভূমিকা পালন করে বলে জানা যায়। এ এস টি এসিড আমাদের শরীরের অতিরিক্ত চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে।যার কারণে এটি আমাদের ওজন কমাতে সক্ষম।
২.আপেল সিডার ভিনেগার কখন খেতে হয়?
আমাদের মধ্যে যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে তারা খাওয়ার আগে বা পরে কুসুম গরম পানিতে এক চামচ আপেল সিডার ভিনেগার দিয়ে সেটা খেতে পারলে উপকার পাবেন। খাবার হজম করার জন্য যে এনজাইম বা এসিডের প্রয়োজন হয় সেসব এনজাইম বা এসিডের নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করে আপেল সিডার ভিনেগার। ফলে খাবার দ্রুত হজম হয় এবং ভালোভাবে হজম হয়।
৩.আপেল সিডার ভিনেগার কি আমাদের কিডনির ক্ষতি করে?
আপেল সিডার ভিনেগার যদি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া হয় তাহলে এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ এবং কিডনির জন্য কোনোরকম ক্ষতিকর নয়।
৪.আপেল সিডার ভিনেগার মুখের ত্বকে মাখলে কি হয়?
আপেল সিডার ভিনেগার শুধু আমাদের ওজন কমানোর জন্য নয় বরং এটি আমাদের ত্বকের যত্নেও ব্যবহার করা হয়। আপেল সিডার ভিনেগার ত্বকে ব্যবহার করলে আমাদের ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনকে উজ্জীবিত করতে পারে। এবং আমাদের ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে পারে। সেই সঙ্গে আমাদের ত্বকের বলি রেখা কমানোর জন্য এটা অপরিহার্য একটি উপাদান।
৫.আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়া কি জায়েজ?
অবশ্যই আপেল সিডার ভিনেগার খাবার জায়েজ। এটা আমাদের শরীরের মেটাবলিকম বাড়াতে সাহায্য করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে পাশাপাশি আমাদের রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে। এটা খাওয়া অবশ্যই সম্পূর্ণ হালাল।
৬.আপেল সিডার ভিনেগার খেলে কি সর্দি ভালো হয়?
আপেল সিডার ভিনেগার সর্দি-কাশি প্রতিরোধ করার ঘরোয়া একটি উপাদান। কফের ওষুধ হিসেবে আপেলসিডার ভিনেগার ব্যবহার করেন অনেকেই।
৭.এক সপ্তাহে ওজন কমাতে কিভাবে আপেল সিডার ভিনেগার পান করব?
আপেল সিডার ভিনেগার ওজন কমাতে সাধারণত প্রতিদিন এক থেকে দুই টেবিল চামচ অর্থাৎ ১৫ থেকে ৩০ মিলে লিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। এভাবে খেতে পারলে আপনার শরীরের ওজন কমে যাবে এক সপ্তাহের মধ্যে।
৮.প্রতিদিন আপেল সিডার ভিনেগার খেলে কি হয়?
আপনার খাদ্য তালিকায় এটা তখনই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে যখন এটা আপনি পরিণত পরিমাণে খেতে পারবেন। আর অতিরিক্ত পরিমাণে খেয়ে ফেললে আপনার শরীরে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন হজমের গতি কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব হওয়া এবং দাঁতের এনামেল এর ক্ষয়।
৯.আপেল সিডার ভিনেগার কি রক্তে পটাশিয়াম কমাতে পারে?
রক্তের পটাশিয়ামের মাত্রা কমাতে পারে আপেল সিডার ভিনেগার। কিন্তু ইতিমধ্যে যদি আপনার পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকে শরীরে তাহলে আপেল সিডার ভিনেগার না খাওয়াই ভালো। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url