ইউরিন ইনফেকশন দূর করার উপায় এবং লক্ষন ও প্রতিকারে করনীয়

আপনি কি ইউরিন ইনফেকশনের সমস্যায় ভুগছেন! গরমে খুব সাধারণ একটি সমস্যা হলো ইউরিন ইনফেকশন। ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে যখন মূত্রনালীর নিম্নাংশ আক্রান্ত হয় তখন চিকিৎসা শাস্ত্রে এই পরিস্থিতিকে বলা হয়ে থাকে মূত্রথলির সংক্রমণ কিংবা ইউরিন ইনফেকশন।
ইউরিন ইনফেকশন দূর করার উপায়
নারী এবং পুরুষ উভয়ের এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। এক হেলথ লাইনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পুরুষের তুলনায় নারীরা প্রস্রাবের সংক্রমনের ভুগে থাকে বেশি। প্রিয় পাঠক আজকে আমার আর্টিকেলের বিষয়ে ইউরিন ইনফেকশন দূর করার উপায় এবং লক্ষন ও প্রতিকারে করনীয় সম্পর্কে।

ভূমিকা

ইউরিন ইনফেকশন দূর করার উপায় এবং লক্ষন ও প্রতিকারে করনীয় সম্পর্কে জানতে হলে আমার আর্টিকেলের সাথেই থাকতে হবে। নারীদের মূত্র নারীর মুত্রাশয় থেকে প্রস্রাব বহন করে নিয়ে আসে সেটা পুরুষের তুলনায় অনেক ছোট।তাই মূত্রনালী আর মুত্রাশয়ের দূরত্ব নারীদের কম হওয়ার জন্য নারীদের শরীরে ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত হয়ে পড়ে অনেক বেশি।
এছাড়াও প্রস্রাবের সংক্রমণের কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং বয়স ডায়াবেটিস, যৌনকর্ম এগুলো বিভিন্ন বিষয়কে দায়ী করে থাকেন চিকিৎসকরা।

ইউরিন ইনফেকশন দূর করার উপায় এবং লক্ষন ও প্রতিকারে করনীয়

চলুন ইউরিন ইনফেকশন দূর করার উপায় এবং লক্ষন ও প্রতিকারে করনীয় সম্পর্কে জেনে নেই। ইউরিন ইনফেকশন আজকাল খুবই পরিচিত একটি রোগ হয়ে উঠেছে। কমবেশি অনেক মানুষই এই রোগে ভুগে থাকে। আবার অনেকেই এই রোগের লক্ষণ সম্পর্কে না জানার কারণে সংক্রমিত হওয়ার পরেও বুঝতে পারে না। এই রোগ হলে সঠিক নিয়ম মেনে চললে এবং সঠিক সময় সঠিক চিকিৎসা করালে এই রোগ থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব।
মুত্রতন্ত্রের কোন অংশ জীবাণু দ্বারা সক্রমণ হলে সেটাকে ইউরিন ইনফেকশন নামে ধরা হয়। এটি খুব সহজ একটি রোগ নয়। ইউরিন ইনফেকশন থেকে আরো বিভিন্ন বড় বড় অসুখের সৃষ্টি হতে পারে। যার কারণে আমাদের প্রত্যেকের এই বিষয় নিয়ে সচেতন থাকা উচিত। যার জন্য এই লক্ষণ এবং প্রতিকারও আমাদের জানতে হবে। প্রিয় পাঠক তরুণ তাহলে জেনে নেই ইউরিন ইনফেকশন দূর করার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে বিস্তারিতঃ
  • ইউরিন ইনফেকশন দূর করতে হলে বা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে সর্বপ্রথম আপনাকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। বেশি বেশি পানি পান করার ফলে আপনার প্রস্রাব বেশি বেশি হবে এবং শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া বের হয়ে যাবে। যার কারণে এই রোগ হওয়ার আর কোন সম্ভাবনা থাকবে না।
  • এই রোগ দূর করার জন্য আপনি ব্রেকিং সোডা খেতে পারেন। এক গ্লাস পানির মধ্যে এক চামচ ব্রেকিং সোডা নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে কমপক্ষে সপ্তাহে একদিন করে সকালবেলা খালি পেটে পান করতে হবে। এতে করে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া কমে যায় এবং ইউরিন ইনফেকশন থাকলে দূর হয়ে যায়।
  • কিছু সেলেরি বীজ খেতে পারেন। এই বীজ মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে থাকে। এই বীজ মুখে নিয়ে চিবিয়ে অথবা রস করে খেতে পারেন। এছাড়াও গরম পানির মধ্যে এই ব্রিজ দিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে এসে পানি থেকে ঠান্ডা করে পান করতে পারেন। এটা ইউরিন ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে পারে।
  • শসার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি। তাই অবশ্যই আপনাকে প্রতিদিন কমপক্ষে একটি করে শসা খেতে হবে। খেতে করে আপনার শরীরে পানির কোন ঘাটতি থাকলে সেটা পূরণ হয়ে যাবে এবং শরীরের জন্য উপকার হবে।
  • প্রস্রাবের জ্বালা করা কমাতে আপনার গরম সেঁক নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি হট ওয়াটার ব্যাগের মধ্যে পানির গরম পড়ে অথবা বোতলের মধ্যে করে পানির গরম করে নিয়ে আপনার তলপেটে সেক দিতে পারেন। এই সেঁক দেওয়ার কারণে আপনার প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া দূর হয়ে যাবে এবং ব্যথা কমে যাবে।
  • এছাড়াও ইউরিন ইনফেকশন দূর করতে হলে প্রাকৃতিকভাবে তরল খাবার গুলো খেতে হবে। প্রচুর পরিমানে রঙিন ফলমূল এবং সবজি খেতে হবে। এছাড়াও মনে রাখবেন ইউরিন ইনফেকশন হলে মসলা জাতীয় খাবার কম খেতে হবে।
  • ভিটামিন সি যুক্ত খাবার প্রস্রাবের বিভিন্ন সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভিটামিন সি যুক্ত খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শুধু বাড়ায় না বরং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়। নিয়মিত ভিটামিন সি খাওয়ার অভ্যাস করলে প্রস্রাব বেশি পরিমাণে অ্যাসিটিক হয়ে ওঠে প্রস্রাব ইনফেকশন দূর করে এবং ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে।
  • ইউরিন ইনফেকশন দূর করতে হলে আপনি নিয়মিত দই খেতে পারেন। কারণ দইয়ের মধ্যে রয়েছে প্রোবায়োটিক উপাদান যা আমাদের শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে।
  • অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল বিভিন্ন উপাদানের কারণে শত শত বছর ধরে দারুচিনি পরিচিত। এটি আমাদের শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে বেড়ে উঠতে বাধা প্রদান করে। এমনকি এক গবেষণার মাধ্যমে জানায় গেছে আমাদের শরীরের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার জন্য দায়ী হল ই কোলি ভাইরাস। যেটি দারুচিনি প্রতিরোধ করতে পারে।
  • অন্যদিকে পেঁপের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা আমাদের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং ইনফেকশনের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া গুলোকে জন্মাতে বাধা প্রদান করে। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে গাজর এবং টমেটোর চেয়ে তিনগুণ ভালো ক্যারোটিনয়েড থাকে পেপের মধ্যে।
  • রসুনের মধ্যে রয়েছে এলিসিন সহ বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়া এবং এন্টিফাঙ্গাল উপাদানটা আমাদের রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে কার্যকর। এটি সব ব্যাকটেরিয়াকে দমন করে বারবার ফিরে আসা ইউরিন ইনফেকশন কেউ ভালো করতে পারে। এজন্য কাঁচা রসুন খেলে উপকার পাওয়া যায় বেশি।
  • এছাড়াও আমাদের ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলতে হবে। টয়লেটে কিছু ব্যবহারের সময় সামনে থেকে পেছনে পরিস্কার করতে হবে। যৌনাঙ্গ সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে এবং পুকুরে কিংবা বাথ ট্যাবে গোসল করার পরিবর্তন বালটির ব্যবহার করতে হবে।
  • সহবাসের আগে এবং পরে যৌনাঙ্গ ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং সহবাসের পরবর্তী সময় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রস্রাব করতে হবে। সুতি কাপড়ের ঢিলেঢালা জামা কাপড় ব্যবহার করতে হবে।

ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ

ইউরিন ইনফেকশনের বেশি কিছু লক্ষণ রয়েছে।আমাদের শরীর থেকে অতিরিক্ত বজ্র পদার্থ প্রসাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়ার সময় এই সঙ্গে সম্পর্কিত অনেকগুলো অঙ্গ রয়েছে যেগুলো সবগুলো মিলিয়ে মূত্রতন্ত্র। এর মধ্যে থাকে দুটি কিডনি, দুটি ইউরেটার, একটি মূত্রথলি বা ব্লাডার এবং একটি মূত্রনালী।
বিভিন্ন কারণে এই মূত্র তন্ত্রের যে কোন অঙ্গ বা যেকোনো অংশের জীবাণু সংক্রমণ হলে সেটিকে ইউরিন ইনফেকশন বলা হয়। ইউরিন ইনফেকশনের অনেকগুলো লক্ষণ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু লক্ষণ হলঃ
  • প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হবে।
  • স্বাভাবিকের যে ঘন ঘন প্রস্রাব হবে।
  • রাতে কিছুক্ষণ পর পর প্রস্রাবের বেগ বেড়ে যাওয়া।
  • অস্বাভাবিক গন্ধযুক্ত এবং ঘোলাটে হবে প্রস্রাবের রং।
  • তলপেটে ব্যথা হবে।
  • কোমরের পেছনে পাঁজরের দিক নিচের অংশে অনেক ব্যথা অনুভব হবে।
  • জ্বর আসা কিংবা গরম লাগা এবং হঠাৎ করে শরীর কাঁপুনি দিয়ে ওঠার মত সমস্যা দেখা যাবে।
  • শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা হঠাৎ করে কমে যেতে পারে।
  • ক্লান্তি এবং বমি বমি ভাব লাগতে পারে।
এছাড়াও বয়সের উপর ভিত্তি করে কিছু লক্ষণের ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। যেমনঃ
  • অস্বাভাবিক আচরণ করা।
  • মানসিকভাবে বিভ্রান্ত অথবা অনেক রাগান্বিত হয়ে যাবে।
  • হঠাৎ করে শরীর ঝাঁকুনি দিতে পারে।
  • প্রস্রাব করে অনেক সময় জামাকাপড় নষ্ট করে ফেলবে।
  • মেজাজ অনেক খিটখিটে হয়ে যাবে।
  • ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করবে না।
  • ঘন ঘন প্রস্রাব করা কিংবা ছোট বাচ্চা হলে হঠাৎ করে বিছানায় প্রস্রাব করা শুরু করে দিবে।
  • বমি হতে পারে।
উপরোক্ত লক্ষণ যদি আপনার মধ্যে দেখা যায় তাহলে অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করতে হবে এবং যথাযথ পরীক্ষা নিরীক্ষা করার মাধ্যমে ওষুধ খেতে হবে। তবে সতর্কতা অবলম্বন না করলে বারবার ইউরিন ইনফেকশন হতে পারে। এজন্য সবদিকে আপনাকে নজরে রাখতে হবে।

ইউরিন ইনফেকশন প্রতিরোধে করণীয়

ইউরিন ইনফেকশন প্রতিরোধে করনীয় সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকের অবগত হওয়া জরুরী। কেননা এই বিষয়ে না জানলে আমরা সতর্ক হতে পারব না। 
  • আমাদের মধ্যে অনেকে প্রস্রাব আটকে রাখার বাজে একটি স্বভাব রয়েছে। যেটা ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার জন্য দায়ী। দীর্ঘ সময় প্রস্তাব আটকে রাখার ফলে আমাদের মূত্রথলিতে ব্যাকটেরিয়া সংখ্যা বাড়তে থাকে যার কারণে বিভিন্ন রোগ হতে পারে। এজন্য কখনো প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না।
  • এছাড়াও যাদের ইউরেনে ইনফেকশন সমস্যা রয়েছে তাদের প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। কেননা অতিরিক্ত পানি পান করার ফলে বেশি বেশি প্রস্রাব হতে থাকে যার কারণে শরীর থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বের হয়ে যায়। তাহলে আর ইউরেনে ইনফেকশন হওয়ার কোনরকম সম্ভাবনা থাকে না।
  • এছাড়াও ইউরিন ইনফেকশন দূর করতে প্রতিদিন নিয়ম করে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেতে হবে। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মিলিগ্রাম ভিটামিন সি গ্রহণ করলে আমাদের শরীরে উৎপন্ন হয় সেটা আমাদের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিস্তার রোধ করতে পারে। এজন্য নিয়মিত ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
  • কোন দিকে এই রোগের প্রতিকারে আপনি ব্রেকিং সোডা গ্রহণ করতে পারেন। এক গ্লাস পানিতে এক চামচ বেকিং সপ্তাহে একদিন সকালবেলা পান করলে আপনার প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া দূর হয়ে যাবে এবং এই রোগ থেকে মুক্তি পাবেন। এছাড়াও প্রতিদিন সকালে খালি পেটে শসা খেতে পারেন।
  • কিছু সেলেরী বীজ চিবিয়ে খেতে পারেন। এই বীজ মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে থাকে। একমুঠো সেলেরি চিবিয়ে খেতে পারলে আপনার ইউরিন ইনফেকশন রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এছাড়াও এক কাপ গরম পানিতে কিছু সেলেরি বীজ রেখে দিন সারা রাত। প্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট পরে এটা ছেকে নিয়ে পান করুন। এতে করে আপনার রোগ প্রতিরোধ সম্ভব।
  • একটু গরম পানি দিয়ে গোসল করলে ইনফেকশনের ব্যথা কিছুটা কমে যায়। এজন্য ইউরিন ইনফেকশনের ব্যথা আপনি গরম পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন। কিংবা হট ওয়াটার ব্যাগে গরম পানি নিয়ে আপনার তলপেটে সেক দিতে পারেন।
  • শরীর সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যবিধি পালন করতে হবে অবশ্যই। আপনাকে পোশাক পরা সুধি কাপড়ের অথবা ব্যবহার করার অভ্যাস থাকতে হবে। এবং নিয়মিত গোসল করা ও শরীর পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার বিভিন্ন কারণ

ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে।সাধারণত বাথরুমের মধ্যে থাকা বিভিন্ন জীবাণুর মূত্র তন্ত্রের মধ্যে প্রবেশ করে ইউরিনি ইনফেকশন ঘটাতে। পারে প্রস্রাবের রাস্তা কিংবা মূত্রনালি দিয়ে এসব জীবাণু মূত্রতন্ত্রে প্রবেশ করে। নারী এবং পুরুষ ভেদে সবারই এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। নারীদের মূত্রথলী পায়ুপথের খুব কাছাকাছি অবস্থিত হয় যার কারণে ব্যাকটেরিয়া পায়ুপথ থেকে সরাসরি মূত্রনালীতে প্রবেশ করে প্রস্রাবের ইনফেকশন ঘটাতে পারে।

 কিংবা মেয়েদের ক্ষেত্রে এই কারণেই প্রস্রাবে ইনফেকশন ঘটার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। বিভিন্ন কারণে প্রস্রাবে ইনফেকশন হতে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করলে প্রস্রাবে ইনফেকশন হতে পারে। প্রস্রাবের স্বাভাবিক বাধার সৃষ্টি করে থাকলে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। অর্থাৎ প্রস্রাব লাগলে সেটা চাপিয়ে রাখার কারণে ইউরিন ইনফেকশন হতে পারে।
যৌনাঙ্গ পরিষ্কার এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে। যেকোনো কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে যেমন ডায়াবেটিস হলে কিংবা এইচআইভি রোগে আক্রান্ত হলে কিংবা কেমোথেরাপি থাকলে হঠাৎ করে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।মূত্রথলী পুরোপুরি খালি করতে বাধা সৃষ্টি করে এমন রোগ হলে যেমন পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া এবং শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা স্নায়ুতন্ত্রের কোন অসুখ হলে এই রোগ হতে পারে।
মেয়েদের মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে অর্থাৎ মেনোপজ হলে ইস্ট্রোজেন নামক এক ধরনের হরমোনের পরিমাণ কমে যায়। তখন ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বা প্রবণতা অনেক বেশি থাকে। প্রস্রাবের রাস্তায় দীর্ঘদিন যাবৎ নল কিংবা ক্যাথেটার পড়ানো থাকলে প্রস্রাবে ইনফেকশন হতে পারে। অনেক সময় গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে ইউরিন ইনফেকশন দেখা যায়।

গর্ভাবস্থায় ইউরিন ইনফেকশন হলে করণীয় কি

নারীদের ক্ষেত্রে সব সময় ইউরিন ইনফেকশনের সমস্যা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় এই সংক্রমণ খুবই পরিচিত সমস্যা। মুত্র তন্ত্রের যেকোনো অংশের জীবাণুর সংক্রমণ হলে গর্ভবতী মায়েদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা যেতে পারে। সাধারণত গর্ভাবস্থায় দুই থেকে দশ শতাংশ নারী এই সমস্যাতে ভুগে থাকেন।
সাধারণত গর্ভাবস্থায় প্রজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা অনেক বেশি বেড়ে যাওয়ার কারণে। মূত্রনালীর পেশিগুলো শিথিল হয়ে যায় এবং যার কারণে মূত্রপ্রবাহ পুরোপুরি ভাবে খালি হতে পারে না যার কারণে সংক্রমনের ঝুঁকি আরো বেশি বেড়ে যায়। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কমে যায় যার কারণে বিভিন্ন সংক্রমণ হতে পারে গর্ভবতী মায়ের।
কোন দিকে যদি তার ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা থাকে তাহলে এই ধরনের সংক্রমণ দেখা যেতে পারে।প্রস্রাবে ইনফেকশন হলে গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া হতে পারে, ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে, তলপেটে ব্যথা এবং কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে ও বমি বমি ভাব এবং প্রস্রাবের সাথে রক্ত যেতে পারে।
এজন্য এ ধরনের কোন উপসর্গ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে অবশ্যই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর এন্টিবায়োটিক এবং করতে হতে পারে। তবে অবশ্যই সেটার সাথে পরামর্শ অনুযায়ী। মনে রাখবেন গর্ভাবস্থায় কিন্তু সব ওষুধ নিরাপদ নয়। তাই অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।
গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে ইনফেকশন হয়ে থাকলে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে সেটা হচ্ছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। আর পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে এবং দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না।অবশ্যই ঢিলেঢালা জামা কাপড় পড়ার চেষ্টা করতে হবে এবং ডায়াবেটিস থাকলে সেটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

ইউরিন ইনফেকশন হলে কি ওষুধ খেতে হবে

ইউরিন ইনফেকশন হলে কি ওষুধ খেতে হবে এটা আমাদের অনেকের অজানা রয়েছে। প্রিয় পাঠক আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা আপনাদের জানাবো ইউরিন ইনফেকশন হলে কি ওষুধ খেতে হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত। জানতে হলে আমার আর্টিকেল এর সাথেই থাকুন। ইউরিন ইনফেকশন হলে Nitrofurantoin খেতে হবে।
Nitrofurantoin সাধারণত একটি এন্টিবায়োটিক টাইপ এর ওষুধ। ওষুধ সাধারণত ইনফেকশন চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত।এই ওষুধ ব্যাকটেরিয়া গুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর যা সংক্রমণ কমায় এবং এই ব্যাকটেরিয়া গুলোর গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলোকে বাধা এবং বন্ধ করে। এটি সাধারণত ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ মোকাবেলা করার জন্য কার্যকরী একটি ওষুধ।
এছাড়াও কিডনির যেকোন সমস্যার সমাধান করতেও সক্ষম। এটি অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত। তবে এটি কমপক্ষে সপ্তাহের জন্য দুই থেকে চারবার নির্ধারিত রয়েছে। এটা নির্দিষ্ট সময় এবং ডোজের বেশি কখনোই খাওয়া উচিত নয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডোজ বন্ধ করে ফেললে সংক্রমণ আরো খারাপ দিকে যেতে পারে। তাই অবশ্যই এই ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

Nitrofurantoin এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

Nitrofurantoin ওষুধের কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। যেমন হুট করে আপনার বমি বমি ভাব হতে পারে কিংবা বমি হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে কিংবা চুল পড়তে পারে। এছাড়া ও আপনার শরীরে বাতের সমস্যা দেখা যেতে পারে। জ্বর কিংবা ঠান্ডা দখ হলুদ হয়ে যাওয়া অথবা প্রস্রাব কারো হওয়া এসব সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। এছাড়াও আপনি মানসিকভাবে অবসাদ থাকতে পারেন।

ইউরিন ইনফেকশন এড়াতে কোন ধরনের খাবার খাবেন

ইউরিন ইনফেকশন এড়াতে কিছু খাবার খেতে পারেন। যেগুলো খাওয়ার মাধ্যমে আপনার ইউরিন ইনফেকশন দূর হয়ে যেতে পারে বা প্রতিকার হতে পারে। চলুন তাহলে জেনে নেই কোন খাবার খেলে ইউরিন ইনফেকশন থেকে দূরে থাকা যায়। প্রথমেই বলে রাখা ভালো ইউরিন ইনফেকশন দীর্ঘদিন ধরে থাকলে কিডনিতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যেতে পারে।
সে ক্ষেত্রে খাবার-দাবারে আপনারা কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হবে। এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং নিয়মকানুন ঠিক করতে হবে। নিয়মিত খাবার খাওয়ার মাধ্যমে এবং সঠিক খাবার খাওয়ার মাধ্যমে ইউরিন ইনফেকশন প্রতিকার করা যায়।

ক্রেনবেরি জুস

এক ধরনের লাল রঙের জাম জাতীয় ফল।এর জুস হল ক্রেনবেরি জুস। এই ফলের জুস ইউরিন ইনফেকশন দূরবর্তী খুব সহায়ক। এই জুস আমাদের শরীর থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করে দিতে পারে। এই ফলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ বিটা ক্যারোটিন, লাইকোপেন এবং প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

ব্রকলি

ব্রকলি বা সবুজ কপিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা আমাদের প্রস্রাবকে অ্যাসিটিক করে ইনফেকশনের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া গুলোকে জন্মাতে বাধা প্রদান করে। এছাড়াও এটি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

পেঁপে

পেপে আমাদের কাছে অনেকের প্রিয় ফল। এই ফলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। যা আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় এবং প্রস্রাবে এসিডিটি বাড়ায়। যার কারণে ইনফেকশন তৈরিতে ব্যাকটেরিয়া গুলো জন্মাতে পারেনা। একটি গবেষণায় জানা গেছে গাজর এবং টমেটোর চেয়ে তিনগুণ ভালো ক্যারোটিন রয়েছে পেঁপের মধ্যে।

দারুচিনি

অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদানের কারণে শত শত বছর ধরে দারুচিনি আমাদের মাঝে সমাদৃত রয়েছে। এটি পরিচিত একটি মসলা আমাদের কাছে। এটি আমাদের শরীরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বেড়ে উঠতে বাধা দেয়। এছাড়াও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার জন্য দায়ী ভাইরাস অর্থাৎ ই কোলি ভাইরাস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে দারুচিনি।

রসুন

এছাড়াও অন্যতম একটি উপাদান হলো রসুন। রসুনের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে।এছাড়াও রসুনের রয়েছে অ্যালিসিন সহ বেশ কিছু উপাদান যা আমাদের ইউরিন ইনফেকশনের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া গুলো কিন্তু দমন করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে কাঁচা রসুন খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
অন্যদিকে ইউরিন ইনফেকশন হলে সেটা ভালো না হওয়া পর্যন্ত চা কফি, অ্যালকোহল ইত্যাদি পান করবেন না। কেননা এগুলো আমাদের মূত্রথলির আরো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বেশি মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া যাবেনা। প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার যেমন দই খেলে উপকৃত হবেন। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

গর্ভাবস্থায় ইউরিন ইনফেকশন হলে করণীয়

নারীদের বিশেষ করে গর্ভাবস্থায়। ইউরিন ইনফেকশন বা মূত্র তন্ত্রের সংক্রমণ খুব বেশি দেখা যায়। মুত্র তন্ত্রের যেকোনো অংশের জীবাণু সংক্রমণ হলে তাকে সাধারণত ইউটিআই বলা হয়। গর্ভাবস্থায় সাধারণত দুই থেকে দশ শতাংশ নারী এই সংসারে ভোগে থাকে। গর্ভাবস্থায় সংক্রমণের কারণ সাধারণত প্রজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া।
যার কারণে মূত্রনালীর বেশি শিথিল হয়ে যায় এবং মূত্র প্রবাহ ধীর হয়ে মূত্রাশয় ঠিকমতো খালি হতে পারে না। যার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অন্যদিকে জরায়ু মুত্রাশয়ের উপরে চাপ সৃষ্টি করে দিতে পারে ফলে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এছাড়াও গর্ভাবস্থায়ী শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় যার জন্য বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ হতে পারে।
অন্যদিকে কোন রোগী ডায়াবেটিস সমস্যায় ভুগলে ইউরিন ইনফেকশন দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় ইউরিন ইনফেকশন সমস্যা দেখা দেওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি রক্ত এবং প্রস্রাবের পরীক্ষা করাতে হবে। মনে রাখবেন গর্ব অবস্থায় যেকোন ওষুধ কিন্তু নিরাপদ নয়। এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ খাওয়া যাবে না।
গর্ভাবস্থায় ইউরিন ইনফেকশনের চিকিৎসা না করালে মূত্রনালীর সংক্রমণের কারণে সন্তানের ওজন অনেক কম হতে পারে। অনেক সময় প্রসব যন্ত্রণার সময়ের আগে হতে পারে। এজন্য আপনার শিশুকে সুস্থভাবে জন্মদান করতে চাইলে অবশ্যই সাথেসাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

পাঠকের শেষকথা

প্রিয় পাঠক এতক্ষণ ধরে আমরা জানলাম ইউরিন ইনফেকশন দূর করার উপায় এবং লক্ষন ও প্রতিকারে করনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য।এছাড়াও আরো জানলাম ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার কারণ, লক্ষণ প্রতিকার এবং গর্ভবতী মায়েদের ইউরিন ইনফেকশন হলে করণীয় কি সেই সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য।আশা করছি আজকের এই পোস্টটি পড়ে আপনারা উপকৃত হয়েছেন।
যদি আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন।তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করবেন।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন।আজকে এই পর্যন্তই।দেখা হবে পরের কোন পোস্টে।আজকের এই পোস্টে যদি আপনার কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন।
এধরনের আরো আর্টিকেল পড়তে এবং বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে আমার ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।আর এতক্ষণ ধরে আমার আর্টিকেলের সাথে থাকার জন্য সকলকে ধন্যবাদ।আসসালামু আলাইকুম।

FAQ:ইউরিন ইনফেকশন দূর করার উপায় এবং লক্ষন ও প্রতিকারে করনীয় সম্পর্কে পাঠকের কিছু প্রশ্ন।

১.ইউরিন ইনফেকশন ভালো হতে কত দিন সময় লাগে?

ইউরিন ইনফেকশন ভালো হতে সাধারণত ভালো চিকিৎসা পেলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে লক্ষণ কমে আসতে পারে। এক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক কোর্সটি সম্পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক। অন্যত্র ভালো হওয়ার পরিবর্তে আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২.দিনে কতবার প্রস্রাব হওয়া উচিত?

একজন মানুষ সাধারণত দিনে দুই লিটার পানি পান করে থাকে। দুই লিটার পানি পান করলে সাধারণত দিনে ছয় থেকে সাত বার প্রস্রাব হওয়া উচিত। কিন্তু একজন ব্যক্তির যখন দিনে ৬ থেকে ৭ বার এর বেশি প্রস্রাব হতে থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৩.অতিরিক্ত মাথা ব্যাথা কি ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ?

হ্যাঁ। অতিরিক্ত মাথাব্যথা ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ। এছাড়াও তলপেটে ব্যথা করা, প্রস্রাবের রাস্তায় চুলকানি, এসব সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৪.প্রস্রাবের রক্ত বন্ধ করতে কোন ধরনের খাবার খাওয়া উচিত?

প্রস্রাবের রক্ত বন্ধ করতে সাধারণত কলা এবং অন্যান্য উচ্চ ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়া জরুরী। ফাইবার যুক্ত খাবার আমাদের মূত্রথলির জন্য ভালো পাশাপাশি আমাদের মলত্যাগের জন্য সুবিধা।

৫.কিডনি এবং মূত্রথলির জন্য কোন কোন খাবার ভালো?

কিডনি এবং মূত্রথলির ভালো রাখতে সাধারণত টাটকা ফলমূল এবং শাকসবজি খাওয়া উচিত। পাশাপাশি ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। রঙিন শাকসবজি প্রতি দিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।

৬.রসুন কি ক্রিয়েটিনিন কমাতে পারে?

রসুনের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের কিডনির কোষগুলোকে বিভিন্ন প্রদাহ থেকে রক্ষা করতে পারে। এছাড়া নিয়মিত রসুন খেতে পারলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং প্রসবের মাধ্যমে ক্রিয়েটিনিন নির্গত করাতে সাহায্য করে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url